আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট অভিষেক, বিচারপতিকে জানালেন সাধুবাদ

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) বিরোধী স্লোগানকে কেন্দ্র করে মুম্বই হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। “মুর্দাবাদ” স্লোগান ব্যবহারের জেরে…

Abhishek Banerjee Under Scrutiny After Warrant Issued Against Personal Assistant

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) বিরোধী স্লোগানকে কেন্দ্র করে মুম্বই হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। “মুর্দাবাদ” স্লোগান ব্যবহারের জেরে এক রাজনৈতিক নেতাকে মুম্বই শহর থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের প্রশাসনিক নির্দেশকে খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এই রায়ের পর বিচারপতি মাধব জামদারের পর্যবেক্ষণকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়  (Abhishek Banerjee) । তিনি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বিচারপতির ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত মহারাষ্ট্রে। অভিযোগ, সোশ্যাল (Abhishek Banerjee) ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরী সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA)–এর বিরোধিতা করতে গিয়ে বিজেপি, কেন্দ্রীয় সরকার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে “মুর্দাবাদ” স্লোগান ব্যবহার করেছিলেন। এই ঘটনার পর মুম্বই পুলিশ প্রশাসনিকভাবে তাঁকে এক বছরের জন্য শহর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পুলিশের দাবি ছিল, ওই বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

   

তবে এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন সাঈদ আহমেদ। (Abhishek Banerjee) মামলার শুনানিতে মুম্বই হাইকোর্টের বিচারপতি মাধব জামদার এই ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, শুধুমাত্র কোনও নাগরিক সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেই কীভাবে তাঁকে শহর ছেড়ে যাওয়ার মতো কঠোর শাস্তি দেওয়া যায়? বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার এবং সেটিকে হঠাৎ করে সীমিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের যথেষ্ট যুক্তি ও প্রমাণ থাকা জরুরি।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে জানায়, কোনও নাগরিক সরকারের সমালোচনা করলেই তাঁকে সমাজবিরোধী বা জনশৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাস্তব পরিস্থিতি, প্রমাণ এবং যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকা প্রয়োজন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগানের ভিত্তিতে কাউকে শহরছাড়া করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই আদালতের মন্তব্য।

এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মুম্বই হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে (Abhishek Banerjee) জারি হওয়া এক বছরের বহিষ্কারের নির্দেশ বাতিল করে দেয়। আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

এই রায়ের পরই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee) । তিনি লেখেন, যখন নীরব থাকা সহজ, তখন সত্যি কথা বলার জন্য সাহস লাগে। বিচারপতি মাধব জামদারকে তিনি কুর্নিশ জানান এবং বলেন, এই রায় সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তাঁর মতে, বিচারবিভাগীয় স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ এই ধরনের রায়ের মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অভিষেকের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি বিচারিক রায়ের প্রশংসা, যেখানে নাগরিক অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, এই ধরনের মন্তব্য জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করছে।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, আদালতের এই রায় মূলত প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন মৌলিক অধিকার, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে অতিরিক্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপের উপরও বিচারিক নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন।