সন্ত্রাসবাদেই চুক্তি স্থগিত, সিন্ধু জল নিয়ে পাক হুমকি উড়িয়ে জবাব ভারতের

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান প্ররোচনা এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের জেরে ফের উত্তপ্ত ভারত-পাক সম্পর্ক। সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Water Treaty) নিয়ে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া জবাব দিল…

Indus Waters Treaty abeyance

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান প্ররোচনা এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের জেরে ফের উত্তপ্ত ভারত-পাক সম্পর্ক। সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Water Treaty) নিয়ে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া জবাব দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, পাকিস্তানের ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়ার কারণেই বর্তমানে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত বা ‘অ্যাবেয়েন্স’-এ (in abeyance) রয়েছে। (Indus Waters Treaty abeyance)

ভারতের কড়া বার্তা

সাংবাদিক বৈঠকে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “সিন্ধু জল চুক্তির বিষয়ে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ও ধারাবাহিক। পাকিস্তানের ক্রমাগত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার জবাব হিসেবেই এই চুক্তি বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে। পাকিস্তানকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, তারা সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া সম্পূর্ণ এবং চিরতরে বন্ধ করেছে।”

   

কেন এই সংঘাত?

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের একাধিক মন্ত্রী ভারতের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পাক জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মুসাদ্দিক মালিক সম্প্রতি দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের জলের ওপর ‘ট্যাপ’ নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং পাকিস্তানের দিকে এক ফোঁটাও জল আসতে দেবেন না। ডন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে ভারত বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে পাক প্রশাসন।

শুধু তাই নয়, এর আগে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। এপ্রিল ২০২৫-এ পাহলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই এই চুক্তি কার্যত স্থগিত রয়েছে। ইশাক দারের দাবি ছিল, ভারত যদি পাকিস্তানের প্রাপ্য জল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাকে ‘জলের অস্ত্রায়ন’ (weaponization of water) হিসেবে দেখা হবে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হতে পারে।

চুক্তি নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জলবন্টন নিয়ে কয়েক দশক ধরে চলা এই চুক্তি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে ভারতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাত্রা বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের তরফ থেকে প্ররোচনামূলক আচরণের কারণে ভারত বারবারই সন্ত্রাস ও আলোচনার পথ যে একসঙ্গে চলতে পারে না, তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের আজকের এই অবস্থান বুঝিয়ে দিল, পাকিস্তান যতক্ষণ না সন্ত্রাসবাদ থেকে সরে আসছে, ততক্ষণ এই গুরুত্বপূর্ণ জল চুক্তি নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নেই।