মাটিগাড়ায় জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান! রাজু বিস্তার তালিকায় থাকা ৩ অভিযুক্ত গ্রেফতার

মাটিগাড়া: মাটিগাড়া এলাকায় জমি দখল ও প্রতারণার (Matigara)অভিযোগকে কেন্দ্র করে বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বলে অভিযোগ ওঠা একটি জমি মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে…

matigara-land-mafia-arrest

মাটিগাড়া: মাটিগাড়া এলাকায় জমি দখল ও প্রতারণার (Matigara)অভিযোগকে কেন্দ্র করে বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বলে অভিযোগ ওঠা একটি জমি মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে মাটিগাড়া থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম রিঙ্কু সিং, রাজেশ ওরাঁও এবং পঙ্কজ তামাং।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি সংক্রান্ত প্রতারণার একাধিক মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এই গ্রেফতারিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ চা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে দার্জিলিং জেলা চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রমিক ভবনে স্মারকলিপি প্রদান

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুন দায়ের হওয়া একটি জমি প্রতারণার মামলায় রিঙ্কু সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার নথিভুক্ত হওয়া আরও একটি পৃথক মামলার তদন্তে রাজেশ ওরাঁও এবং পঙ্কজ তামাংকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, জমি সংক্রান্ত নথিতে কারচুপি, ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি এবং বেআইনি হস্তান্তরের মতো একাধিক অভিযোগের সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

আরও দেখুনঃ শিলিগুড়ির গঙ্গানগরে রহস্যজনক ভাবে অসুস্থ পুরো পরিবার! শিশুর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সম্প্রতি দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা পুলিশের হাতে ২২ জন কথিত জমি মাফিয়ার একটি তালিকা তুলে দিয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে দাবি, এবার যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের তিনজনের নামও সেই তালিকায় ছিল। যদিও শুধুমাত্র তালিকায় নাম থাকা কোনও ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ করে না; নির্দিষ্ট মামলার তদন্ত ও প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই পুলিশ গ্রেফতারের পদক্ষেপ করেছে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ফাঁকা জমিকে টার্গেট করত। প্রথমে ভুয়ো নথি তৈরি করে বা জাল কাগজপত্রের সাহায্যে জমির মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হতো। এরপর সেই জমি অন্যের নামে বিক্রি বা হস্তান্তর করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের প্রতারণার ফলে প্রকৃত জমির মালিকরা যেমন ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তেমনই বহু ক্রেতাও প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ।

আরও দেখুনঃ

এছাড়াও তদন্তে ADSR দফতরের কয়েকজন কর্মীর সম্ভাব্য যোগসাজশের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের অভিযোগ সামনে এলেও এবার সেই দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছে না।