নয়াদিল্লি: ভারতের ঘরে ঘরে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ সোনাকে (Gold Monetisation)অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসতে মোদী সরকার এক বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। সরকার স্বর্ণকারদের সোনার মুদ্রাকরণ প্রকল্প (জিএমএস)-এর সংগ্রহ ও অ্যাগ্রিগেশন পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রায় ৩০ হাজার টন নিষ্ক্রিয় গৃহস্থালির সোনা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র অনুসারে, আগস্ট মাসে এই পুনর্গঠিত প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সোনার বাজার। দেশের মানুষ সোনাকে শুধু অলংকার হিসেবে নয়, নিরাপদ বিনিয়োগের প্রতীক হিসেবেও দেখেন। বিবাহ, উৎসব কিংবা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সোনা কিনে রাখেন।
আরও দেখুনঃ চিন-পাকিস্তান সীমান্তে নজর! সেনার হাতে আসছে ‘কে-৯ বজ্র’ ও ‘কামিকাজে’ ড্রোন
কিন্তু এই বিপুল সম্পদ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তালাবন্ধ হয়ে পড়ে থাকে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে প্রায় ৩০ হাজার টনেরও বেশি গৃহস্থালির সোনা এভাবে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। অথচ ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে চালু হওয়া গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমের আওতায় এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৯ টন সোনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্যকে খুব একটা উল্লেখযোগ্য বলা যায় না।
সরকারের নতুন পরিকল্পনায় জুয়েলার্সদের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সাধারণ মানুষ ব্যাঙ্কে সোনা জমা দিতে গেলে নানা জটিলতার সম্মুখীন হন। ওজন যাচাই, বিশুদ্ধতা পরীক্ষা, কাগজপত্রের ঝামেলা এসব কারণে অনেকেই এগোতে চান না। জুয়েলার্সরা যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যুক্ত, তাদের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
আরও দেখুনঃ এখনও ঢোকেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? কী করবেন জানুন
জুয়েলার্সরা সোনা সংগ্রহ করে ব্যাঙ্কে জমা দেবেন এবং প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা করবেন। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য তিনটি। প্রথমত, দেশের অভ্যন্তরীণ সোনার ভাণ্ডারকে কাজে লাগানো। দ্বিতীয়ত, আমদানিনির্ভরতা কমানো। ভারত প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সোনা আমদানি করে, যা বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ায় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ ফেলে।
তৃতীয়ত, সোনার আমদানি বিল কমিয়ে অর্থনীতিকে আরও মজবুত করা। যদি ঘরের সোনা ব্যাঙ্কে আসে, তাহলে সেই সোনা ঋণ দেওয়া, গয়না তৈরি কিংবা অন্যান্য উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা যাবে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে এবং সোনার বাজারেও স্থিতিশীলতা আসবে।জুয়েলার্সদের সংগঠনগুলোও এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
তাদের মতে, এতে ছোট-বড় সব জুয়েলার্সের ব্যবসায় নতুন গতি আসবে। তবে কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শও দিয়েছেন তারা। যেমন সোনার বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা। সরকারও এসব দিক বিবেচনা করে নিয়মকানুন আরও সহজ করার কথা ভাবছে।


