কলকাতা: আজকাল দ্রুততম সময়ে খাবার ডেলিভারি বা কুইক কমার্স অ্যাপের দৌলতে ঘরের দরজায় পৌঁছে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী। কিন্তু এই দ্রুতগতির ডেলিভারি কি সবসময় নিরাপদ? বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ডেলিভারির গতি নয়, বরং খাবারের গুণমানই আসল। মেয়াদ উত্তীর্ণ বা নষ্ট খাবার খেলে শুধু সাময়িক পেট খারাপ নয়, হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অসুস্থতা। সম্প্রতি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অশোক শেঠ। (Dr Ashok Seth warns about quick commerce food safety risks)
দ্রুত ডেলিভারি মানেই কি নিরাপদ?
ডাঃ শেঠের মতে, ডেলিভারির গতি আমাদের অনেক সময় বিভ্রান্ত করে। খাবারটি ১০ মিনিটে পৌঁছালেই সেটি নিরাপদ, এই ধারণা ভুল। খাবারের ক্ষতিটা ডেলিভারির সময় হয় না, বরং ডেলিভারি ব্যাগে ওঠার আগের অবস্থা থেকেই বিপত্তি শুরু হয়। নষ্ট খাবারে সালমোনেলা, ই-কোলাই (E. coli), লিস্টিরিয়া-র মতো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া এবং টক্সিন থাকতে পারে। এই খাবার খেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বমি বা পেটের সমস্যা শুরু হতে পারে।
প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি কী কী?
ডাঃ শেঠ তিনটি প্রধান সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন-
১. গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস: বমি, ডায়রিয়া এবং পেটে ব্যথা।
২. জলশূন্যতা (Dehydration): শরীর থেকে জল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, যা অনেক সময় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য করে।
৩. সিস্টেমিক ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন: টাইফয়েডের মতো রোগ, যা গুরুতর ক্ষেত্রে সেপসিস বা রক্তে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
উচ্চ জ্বর, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া বা তিন দিনের বেশি অসুস্থতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি।
দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্ভাবনা
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, নষ্ট খাবার খেলে সাময়িক অসুস্থতার চেয়েও দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি থাকে। ই-কোলাই সংক্রমণের ফলে কিডনিতে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। ক্যাম্পাইলোব্যাকটর নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ‘গিলিয়েন-ব্যারি সিন্ড্রোম’ (Guillain-Barré syndrome) নামক স্নায়ুর জটিল সমস্যা হতে পারে।
অনেকে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর মাসের পর মাস ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (IBS) বা রিয়্যাক্টিভ আর্থ্রাইটিসে ভোগেন। লিস্টিরিয়া ব্যাকটেরিয়া গর্ভস্থ ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে।
সুরক্ষায় করণীয় কী?
ডাঃ শেঠ সাধারণ মানুষের জন্য কিছু সতর্কবার্তা দিয়েছেন৷ তিনি বলেছেন, ডেলিভারি পাওয়ার পর প্যাকেটটি সিল করা কি না বা খোলা কি না তা পরীক্ষা করুন। গরম খাবার গরম এবং ঠান্ডা খাবার সত্যিই ঠান্ডা কি না তা দেখুন। খাবার ঈষদুষ্ণ বা ‘লুকওয়ার্ম’ হওয়া মানেই তাতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
যদি খাবারের গন্ধ বা স্বাদ অদ্ভুত মনে হয় বা দেখতে পিচ্ছিল লাগে, তবে তা একেবারেই খাবেন না। বাইরে থেকে আনা খাবার বেশিক্ষণ বাইরে ফেলে রাখবেন না। প্রয়োজনে ভালো করে গরম করে তবেই খান।
ডাঃ শেঠের সহজ পরামর্শ, “সন্দেহ হলে ফেলে দিন। হাসপাতালের বিলের তুলনায় খাবারের দাম অনেক কম।”


