কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের রাজনৈতিক লড়াই এখন তুঙ্গে। একদিকে দলের অন্দরে ক্ষমতা দখলের লড়াই, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ, সব মিলিয়ে উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। বৃহস্পতিবার এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর অভিযোগ, রামমন্দিরের জন্য সংগৃহীত অর্থ দিয়েই দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। (Saugata Roy Election Commission Statement)
নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে বিস্ফোরক সৌগত
সৌগত রায়ের মতে, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “অমিত শাহই এখন নির্বাচন কমিশন চালান। তাঁর নির্দেশেই বেআইনি বৈঠক হচ্ছে। এখন কমিশনকে জ্ঞানেশ কুমার চালাচ্ছেন।” নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
কমিশনে ঋতব্রত শিবির
অন্যদিকে, এদিন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে ঋতব্রত দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, তাঁদের হাতেই দলের আসল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি বলেন, “অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস আমরাই। দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক, একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, কাউন্সিলর এবং জেলা পরিষদের সদস্যরা আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।”
ঋতব্রত জানান, গত ২২ জুন তাঁদের ডাকা বিশেষ প্রতিনিধিদের অধিবেশনে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন এবং আখরুজ্জামানকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তৃণমূলের অন্দরের এই টানাপোড়েন এখন আইনি লড়াইয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে সৌগত রায়ের মতো প্রথম সারির নেতাদের এই কড়া অবস্থান, আর অন্যদিকে কমিশনের দরজায় দাঁড়িয়ে ঋতব্রত শিবিরের দাবি, সব মিলিয়ে আগামী দিনে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন- এখনও ঢোকেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? কী করবেন জানুন


