দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে (Digha jagannath Temple) এ বছরের রথযাত্রাকে ঘিরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গত বছরের তুলনায় এ বার সাধারণ ভক্তদের জন্য আরও বেশি সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে, জগন্নাথদেবের রথের রশি টানার ক্ষেত্রে আর শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অতিথি বা ভিআইপিদের মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। সাধারণ মানুষও যাতে রথের রশি টানতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। এর ফলে রথযাত্রায় অংশ নিতে আসা হাজার হাজার ভক্ত সরাসরি এই ঐতিহ্যের অংশ হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বছর দিঘার রথযাত্রা (Digha jagannath Temple) নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, রথের রশি টানার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কেবলমাত্র প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আমন্ত্রিত অতিথিকে। সাধারণ ভক্তরা রথের সামনে উপস্থিত থাকলেও তাঁদের রশি টানতে দেওয়া হয়নি। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, রথযাত্রার মতো ধর্মীয় উৎসবে সকল ভক্তের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত।
সেই অভিজ্ঞতার পর এ বছর (Digha jagannath Temple) প্রশাসন ভিন্ন পথে হাঁটতে চাইছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রথযাত্রাকে আরও সর্বজনীন এবং ভক্তকেন্দ্রিক করে তুলতেই সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রথের রশি টানার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখে কীভাবে ভক্তদের সুযোগ দেওয়া যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।
রথযাত্রার আগে মন্দিরে ধর্মীয় আচারও শুরু হয়ে গিয়েছে। (Digha jagannath Temple) গত ২৯ জুন দিঘার জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে একটি অস্থায়ী বেদি তৈরি করে জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির সূচনা হয়েছে। স্নানযাত্রার পর থেকেই রথগুলির সংস্কার, রং করা এবং অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।
পুরীর মতো দিঘায় প্রতি বছর নতুন রথ তৈরি করা হয় না। নির্দিষ্ট রথগুলিকেই প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার করে ব্যবহার করা হয়। এ বছর তিনটি রথ নতুন করে রং করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মেরামতির কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে রথগুলি মন্দিরের উত্তর দিকে রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই রথগুলির ট্রায়াল বা মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এই মহড়ার মাধ্যমে রথের কাঠামো, চাকা, ভারসাম্য এবং চলাচলের উপযোগিতা খতিয়ে দেখা হবে। মহড়ার সময় প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা যায়।


