‘পাকিস্তানিরা সিন্ধু সভ্যতার সন্তান!’ জলসঙ্কটে ইমোশনাল অত্যাচার পাক মন্ত্রীর

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর একটি বিতর্কিত (Pakistan)দাবি ঘিরে ফের বাড়ল ভারত -পাক উত্তেজনা। তিনি একটি বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, পাকিস্তানিরা সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার…

pakistan-indus-valley-civilization-claim

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর একটি বিতর্কিত (Pakistan)দাবি ঘিরে ফের বাড়ল ভারত -পাক উত্তেজনা। তিনি একটি বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, পাকিস্তানিরা সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার প্রত্যক্ষ উত্তরসূরি। এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। অনেকে এটিকে ইতিহাসের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বলে সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে এই দাবি আরও জটিলতা যোগ করেছে।

মন্ত্রী বলেছেন, পাকিস্তানের জনগণের শিকড় সিন্ধু সভ্যতায় নিহিত। হরপ্পা, মহেঞ্জোদারোর মত প্রাচীন সভ্যতার উত্তরাধিকারী হিসেবে পাকিস্তানিরা গর্ববোধ করতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। কিন্তু এই দাবির পরই সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন এর আগে পাকিস্তানিরা আরব, ইরানি, চিনা, তুর্কি বংশোদ্ভূত বলে দাবি করা হয়েছে। এখন পঞ্চমবার ‘বাবার নাম’ বদলানো হচ্ছে কেন? ইতিহাসবিদরা বলছেন, জাতীয় পরিচয় গঠনে ইতিহাসকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃ কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে মন্দিরের উৎসবে হামলা! গ্রেফতার বিজেপি নেতা!

সিন্ধু সভ্যতা প্রায় ৫ হাজার বছর আগের। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের এক বিস্তৃত অঞ্চলে বিস্তার লাভ করেছিল। বর্তমান পাকিস্তান ও ভারতের বিভিন্ন অংশ এই সভ্যতার অংশ ছিল। ঐতিহাসিকরা বলেন, এই সভ্যতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দাবি করা যেতে পারে, কিন্তু একমাত্র উত্তরাধিকারী বলা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়। উপমহাদেশের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী এই প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে যুক্ত।

পাকিস্তানে জাতীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। দেশটির সৃষ্টির পর থেকেই ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সময়ে সময়ে আরব, ইরানি, তুর্কি বা মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে ইতিহাস ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এবার সিন্ধু সভ্যতাকে সামনে আনা হয়েছে জাতীয়তাবাদী আবেগ জাগাতে। একজন ইতিহাসবিদ মন্তব্য করেন, “ইতিহাসকে রাজনৈতিক সুবিধা অনুসারে বদলানো যায় না।

সিন্ধু সভ্যতা সমগ্র উপমহাদেশের ঐতিহ্য।”এই বক্তব্যের পর ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, পাকিস্তান যখন জলসংকটে ভুগছে, তখন এমন দাবি করা হাস্যকর। “জলের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে দেশ, অথচ ইতিহাসের নাম বদলাচ্ছে” এমন মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই দাবি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, বর্তমান সরকার জনগণের আসল সমস্যা থেকে নজর সরাতে ইতিহাসের আশ্রয় নিচ্ছে।