নয়াদিল্লি: আসন্ন বাদল অধিবেশনে সংসদে একটি বড় আইন আনার প্রস্তুতি চলছে (Ministers removal)। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম গুরুতর অপরাধে ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে আটক থাকলে তাঁরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ থেকে সরে যাবেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অনুসারে, জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটি (জেপিসি) ২০ জুলাইয়ের আগেই রিপোর্ট গ্রহণ করতে পারে, যা আইন প্রণয়নের পথ প্রশস্ত করবে।
সরকারের যুক্তি হল, ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিকবার জামিনের আবেদন করতে পারেন। এতে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার লঙ্ঘন হবে না বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অপব্যবহার রোধে কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হতে পারে। এই পদক্ষেপের পেছনে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ঘটনা অনেকাংশে দায়ী। কেজরিওয়াল গ্রেফতার হওয়ার পরও পদত্যাগ করেননি, যা বিতর্কের জন্ম দেয়।
আরও দেখুনঃ ইঞ্জিনের দাম বাড়াল আমেরিকা! ভারতের AMCA প্রোগ্রামে বাধা
এরপরই সরকার এই ধরনের আইন আনার উদ্যোগ নেয়।রাজনৈতিক মহলে এই প্রস্তাবিত আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকে এটাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে এমন আইন প্রয়োজন। যদি কোনো মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে দীর্ঘদিন জেলে থাকেন, তাহলে তাঁর পদে থাকা জনগণের প্রতি অন্যায়।
বিশেষ করে দুর্নীতি, অর্থ পাচার বা অন্যান্য গুরুতর মামলায় এই নিয়ম কার্যকর হলে প্রশাসন আরও স্বচ্ছ হবে।তবে বিরোধীরা এই প্রস্তাবকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে আখ্যায়িত করছেন। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল বিরোধী নেতাদের টার্গেট করতে এই আইন ব্যবহার করতে পারে। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো বলছে, এতে গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভই দুর্বল হয়ে পড়বে। একজন বিরোধী নেতা বলেন, “যদি কোনো নেতা মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হয়, তাহলে তাঁকে পদচ্যুত করার এই নিয়ম গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।”
সরকার অবশ্য জোর দিয়ে বলছে, এই আইন শুধু গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাধারণ মামলায় এটি কার্যকর হবে না। এছাড়া ৩০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনি লড়াই করার সুযোগ পান। কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করে অপব্যবহার রোধ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এই আইনের পেছনে ‘ব্রেক অ্যান্ড মার্জ’ রাজনীতির কোনো ভূমিকা আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, বিভিন্ন রাজ্যে দল ভাঙা-গড়ার খেলার পর এই ধরনের আইন আনা হচ্ছে যাতে অস্থিরতা কমে। তবে সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।মনসুন অধিবেশন এবার অত্যন্ত নাটকীয় হতে চলেছে। এই আইন ছাড়াও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংসদে তুমুল বিতর্ক ও ওয়াকআউটের সম্ভাবনা রয়েছে।





