তিরুবনন্তপুরম: ২০২৬-এর পালাবদলের পর কেরলে এখন কংগ্রেসের রাজত্ব। (R Sugathan)আর নতুন সরকার ক্ষমতায় বসতেই কি শুরু হয়ে গেল বিরোধীদের জমি শক্ত হাতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ‘টার্গেট গেম’? একটি মন্দিরের উৎসবকে কেন্দ্র করে দাপুটে বিজেপি কাউন্সিলর আর. সুগতনকে কড়া আইনে গ্রেফতারির ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে অন্তত সেই রাজনৈতিক মেরুকরণের আগুনই উসকে দিল।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিরুবনন্তপুরমের ভাজোট্টুকোনাম ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর আর. সুগতন। ভেল্লাইকাদাভুর মন্দিরে উৎসব চলাকালীন হামলা এবং তাঁকে ধরতে যাওয়া পুলিশের ওপর পাল্টা আক্রমণের অভিযোগে বুধবার তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে নেদুমানগড়ের স্থানীয় আদালত। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সুগতনের বিরুদ্ধে কেরলের সমাজবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (KAAPA) মতো চরম কড়া ধারা প্রয়োগ করেছে ভাট্টিয়ুরকাভু থানার পুলিশ!
আরও দেখুনঃ ইঞ্জিনের দাম বাড়াল আমেরিকা! ভারতের AMCA প্রোগ্রামে বাধা
এদিন ভিয়্যুর সেন্ট্রাল জেল থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের যুক্তিতে আদালত এদিন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। কিন্তু এই গ্রেফতারি কি নিছকই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে, নাকি এর পেছনে রয়েছে শাসকদলের রাজনৈতিক ব্লুপ্রিন্ট? আদালতে দাঁড়িয়ে খোদ সুগতন অভিযোগ করেছেন, ভ্যানে করে নিয়ে আসার সময় পুলিশ অফিসাররা তাঁর সঙ্গে চূড়ান্ত দুর্ব্যবহার ও চরম হয়রানি করেছে।
গেরুয়া শিবিরের আইনজীবীদের সোজা দাবি কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে পুলিশকে লেলিয়ে দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপি নেতাকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে খোদ বিচারকও পুলিশের কাছে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়কার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন।
এদিন আদালত চত্বরের বাইরের ছবিটাও ছিল রীতিমতো উত্তেজনাপূর্ণ। একদিকে পুলিশের বিশাল নিরাপত্তা বলয়, অন্যদিকে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা অগুনতি বিজেপি কর্মী সমর্থকের ভিড়। একদিকে বিজেপির আবেগজড়িত ‘মন্দির’, অন্যদিকে কংগ্রেস সরকারের পুলিশি দাপট সব মিলিয়ে দক্ষিণের এই রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজনীতির মাঠ যে ফের উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে, এই ঘটনা তারই স্পষ্ট প্রমাণ!





