পহেলগাঁওয়ের হামলার পর সিন্ধু জলচুক্তি করে মোদী সরকার। (Jawhar Sircar)দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিদের সমর্থন এবং ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বদলা হিসেবে এই দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। এখন দেশের ১১৭ জন রাজনীতিবিদ কেন্দ্রকে একটি চিঠি লিখেছেন যাতে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসে এবং তাদের সিন্ধু নদীর জল ব্যবহার করতে দেয়। এই ১১৭ জনের মধ্যে ফারুখ আবদুল্লাহ থেকে শুরু করে মেহবুবা মুফতি রয়েছেন এবং রয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জহর সরকার।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ফের সমাজ মাধ্যমে কলম ধরলেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথাগত রায়। এই আবেদনকারীদের তথাগত রায় ‘ব্যস্তবাগীশ’ বলে উল্লেখ করেছেন।তথাগত রায় বলেন, “এই ১১৭ জনের মধ্যে জহর সরকারের মত লোক রয়েছেন।
আরও দেখুনঃ কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ নিয়ে টানাপোড়েন, ফের কোর্টে তলব অভিষেককে
পাকিস্তানের ওপর জলচুক্তি বাতিলের চাপ পড়তেই তাঁরা সংলাপের দাবি তুলেছেন। পাকিস্তান এখন সংকটে পড়েছে, এটি শুরু মাত্র।” তিনি আরও যোগ করেন, পাকিস্তানের জনগণ তৃষ্ণায় কষ্ট পেলেও তারা কখনও ভারতের বন্ধু হবে না বা সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করবে না। কারণ পাকিস্তান চলে সেনাবাহিনী ও মোল্লাদের নিয়ন্ত্রণে। শাহবাজ শরিফ শুধু একজন ‘পুতুল’। শান্তি হলে এই শক্তিগুলোর প্রভাব কমে যাবে বলে তাঁরা চান না।
তথাগত রায়ের মতে, পাঠানকোট, ২৬/১১ মুম্বই হামলা এবং পহেলগাঁওয়ের মত মত ঘটনা বারবার ঘটবে। পাকিস্তান সমস্যা তৈরি করবে আর ভারতকে জলসম্পদসহ নানা উপায়ে প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানে সত্যিকারের বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই চক্র চলবে। আর সেই সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।”আবেদনকারীদের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তথাগত রায়।
আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল , আমেরিকা-ইরান আলোচনা করতে পারলে ভারত-পাকিস্তান কেন পারবে না? এই যুক্তিকে তিনি ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, “এঁরা এসব কেন বলছেন? শুধু টাকার লোভে নাকি দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে খুশি করে কংগ্রেসের পক্ষে ভোট জোগাড় করার চেষ্টায়? এই প্রশ্নের তদন্ত হওয়া উচিত।”
ইসরায়েলের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গোল্ড মেয়ারের বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করে তথাগত রায় বলেন, “আরবরা অস্ত্র নামিয়ে রাখলে যুদ্ধ থাকবে না, কিন্তু আমরা নামিয়ে রাখলে ইসরায়েল থাকবে না। ভারত-পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও ঠিক একই অবস্থা।” তাঁর মতে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে ভারতের অস্তিত্বই বিপন্ন হতে পারে।
এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু করেছে। বিজেপি সমর্থকরা তথাগত রায়ের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, জলচুক্তি বাতিলের মতো পদক্ষেপ পাকিস্তানকে চাপে ফেলেছে এবং এটি চালিয়ে যাওয়া উচিত। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশ আবেদনকারীদের পক্ষ নিয়ে বলছেন, শান্তি ও সংলাপ ছাড়া উপমহাদেশে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।





