নয়াদিল্লি: বড়সড় সাফল্য পেল ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI)। দিল্লিকে কেন্দ্র করে সক্রিয় একটি আন্তর্জাতিক সোনা পাচার চক্রের (Gold Smuggling) পর্দাফাঁস করে ১৫ কেজি বিদেশি সোনা উদ্ধার করেছে সংস্থাটি। উদ্ধার হওয়া সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।
ডিআরআই সূত্রে জানা গিয়েছে, থাইল্যান্ড থেকে আসা একটি আন্তর্জাতিক কুরিয়ার পার্সেল সম্পর্কে গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়ার পর দিল্লি কুরিয়ার টার্মিনালে নজরদারি চালানো হয়। পার্সেলটিতে ‘ওয়ার্ন গিয়ার’ (Worn Gear) রয়েছে বলে ঘোষণা করা হলেও সেটি একটি বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের নামে পাঠানো হয়েছিল।
গিয়ারের ভিতরে লুকিয়ে ছিল সোনা
পার্সেলটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে ডিআরআই আধিকারিকরা গিয়ারের যন্ত্রাংশের ভিতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা আটটি চাকতি আকৃতির সোনার টুকরো উদ্ধার করেন। প্রতিটি চাকতির ওজন ছিল ১.৫ কেজি, অর্থাৎ মোট ১২ কেজি সোনা উদ্ধার হয়।
এরপর একযোগে অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও দুটি একই ধরনের সোনার চাকতি, যার মোট ওজন ৩ কেজি, উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার ৪, ধৃতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও
এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে ডিআরআই। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন এই পাচারচক্রের মূল চক্রী, এক পুনরাবৃত্ত অপরাধী (Repeat Offender) এবং এক বিদেশি নাগরিক।
ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে চলত অর্থ লেনদেন
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক এই সোনা পাচার চক্রে অর্থের লেনদেনের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করা হতো। সীমান্ত পেরিয়ে পাচারের অর্থ জোগাড় ও লেনদেন গোপন রাখতেই এই ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।
ডিআরআই জানিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং এর নেপথ্যে বড় কোনও নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলছে।





