ঝাড়খণ্ডের ভোটার তালিকা থেকে আদিবাসীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে! অভিযোগ নিশিকান্তের

রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনী তালিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। (Nishikant Dubey)স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, ২০০২ সালের ভোটার রোলের সঙ্গে ৪৭ লক্ষেরও…

nishikant-dubey-jharkhand-voter-list-tribal-voters-sir

রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনী তালিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। (Nishikant Dubey)স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, ২০০২ সালের ভোটার রোলের সঙ্গে ৪৭ লক্ষেরও বেশি ভোটারের কোনো ম্যাপিং হয়নি। অথচ পাশের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যা ঝাড়খণ্ডের প্রায় আড়াই গুণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও অম্যাপড ভোটারের সংখ্যা মাত্র ৩১ লক্ষের কাছাকাছি। এই অভিযোগ করেছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে

এই তথ্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে শুধু প্রশাসনিক অদক্ষতা নয়, বরং গভীরতর গণতান্ত্রিক ও জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।ঝাড়খণ্ডের মোট ভোটার সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ২.৬৪ কোটি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশের সঙ্গে পুরনো রোলের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ম্যাপিং প্রক্রিয়া ভোটার তালিকাকে পরিষ্কার ও নির্ভুল করার জন্য জরুরি।

   

আরও দেখুনঃ বিমানবন্দরে লম্বা লাইনের দিন শেষ! আপনার ফোনে এই অ্যাপটি আছে তো?

কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে এত বড় সংখ্যক অম্যাপড ভোটার কীভাবে সম্ভব? বিশেষ করে সাঁওতাল পরগনা, গোদ্ডা, পাকুড়ের মতো আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এই সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি।বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে দীর্ঘদিন ধরে এই ইস্যুতে সরব। তিনি বারবার বলেছেন, ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী জনসংখ্যা কমছে।

২০০০ সালে সাঁওতাল পরগনায় আদিবাসীদের অনুপাত ছিল ৩৬ শতাংশ, এখন তা নেমে এসেছে ২৬ শতাংশে। দুবে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আদিবাসী নারীদের সঙ্গে বহিরাগতদের বিয়ে এর অন্যতম কারণ। তিনি এমনকি সাঁওতাল পরগনাকে ইউনিয়ন টেরিটরি ঘোষণা করে এনআরসি চালুর দাবি তুলেছেন। তার কথায়, “আদিবাসীদের অস্তিত্ব বিপন্ন। ভোটার তালিকায় যা ঘটছে, তা তারই প্রতিফলন।”

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের তুলনা আরও চিন্তার বিষয়। রাজ্যের জনসংখ্যা ঝাড়খণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি হলেও অম্যাপড ভোটার অনেক কম। এখানে SIR প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েক লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সংখ্যাটা অনুপাতে অনেক কম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশের ইতিহাস, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এসব বিষয় নিয়ে জাতীয় স্তরে আলোচনা দরকার।