মুম্বই: আগামী ১ জুলাই থেকে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি (Fuel Prices) এবং বিতরণের উপর জারি থাকা সমস্ত অস্থায়ী বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সোমবার সন্ধ্যায় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা করেছে।
মন্ত্রকের জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থে এই বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল।
কেন জারি হয়েছিল এই বিধিনিষেধ?
সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরো বাজার ও বাল্ক ক্রেতাদের জ্বালানির দামের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এর ফলে বহু শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহক নির্ধারিত কনজিউমার পাম্পের বদলে সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি কিনতে শুরু করেন।
এর জেরে বিভিন্ন জায়গায় জ্বালানি মজুত, অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া (ডাইভারশন) এবং কালোবাজারির অভিযোগ সামনে আসে, যা সাধারণ গ্রাহকদের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছিল।
Also Read | অষ্টম বেতন কমিশন: ২.১০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা! কতটা বাড়বে বেতন?
১২ জুন থেকে কার্যকর হয়েছিল নিয়ম
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১২ জুন কেন্দ্র সরকার অস্থায়ীভাবে একাধিক নিয়ম চালু করেছিল। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী:
• প্রতিটি গ্রাহক বা গাড়িকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০০ লিটার ডিজেল দেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়।
• শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের সাধারণ পেট্রোল পাম্পের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কনজিউমার পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে বলা হয়।
সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে কালোবাজারি ও মজুতদারি রোধ করা সম্ভব হয়েছে এবং সারা দেশে সাধারণ মানুষের জন্য পেট্রোল-ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা গেছে।
কেন উঠছে নিষেধাজ্ঞা?
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বক্তব্য, বর্তমানে দেশে জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে সমস্ত অস্থায়ী বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং স্বাভাবিক বিক্রয় ও বিতরণ ব্যবস্থা পুনরায় চালু হবে।
Also Read | দাম কমতেই সোনা বিক্রির ধুম! লাভের আশায় আমজনতা
আন্তর্জাতিক বাজারে এখনও অস্থিরতা
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির কাঠামো স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশেরও বেশি কমেছিল। তবে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কারণে ফের কিছুটা দাম বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে তেলের বাজারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।



