আফগানিস্তানে পাক-বিমান হামলার কী প্রতিক্রিয়া দিল ভারত? জানুন বিদেশমন্ত্রকের বার্তা

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছে ভারত। নিরীহ মানুষের প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে কাবুলের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে নয়াদিল্লি।

india-condemns-pakistan-airstrikes-in-afghanistan

নয়াদিল্লি: আফগানিস্তানের (Afghanistan) ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানাল ভারত। সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এতে নারী ও শিশুসহ বহু নিরীহ সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

বিবৃতিতে ভারত জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে এ ধরনের সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং তা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে নয়াদিল্লি।

   

ভারত পুনরায় স্পষ্ট করেছে যে, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। একই সঙ্গে গোটা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও জোর দিয়েছে ভারত।

পাকিস্তানের হামলায় নিহত অন্তত ৩৬ সাধারণ মানুষ

আফগানিস্তানের কর্মকর্তাদের দাবি, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষে অন্তত ৩৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং ১৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী রবিবার গভীর রাতে সীমান্ত এলাকায় স্থল অভিযান চালানোর পর কথিত জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার জবাব দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং এতে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

Also Read | অবশেষে NIA র হাতে লালকেল্লা বিস্ফোরণের মূল চক্রী শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ মুজাফফর!

তালিবান সরকারের কড়া প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের এই হামলাকে “কাপুরুষোচিত আগ্রাসন” এবং “নৃশংসতা” বলে আখ্যা দিয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার।

তালিবান সরকারের মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, পাকতিয়া প্রদেশের চামকানি জেলায় একটি বাড়িতে বিমান হামলায় এক বৃদ্ধ ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তাঁর অভিযোগ, প্রথম হামলার পর গ্রামবাসীরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলে দ্বিতীয় দফায় আবার হামলা চালানো হয়। সেই হামলায় ২৮ জন গ্রামবাসী নিহত এবং ১৫৮ জন আহত হন বলে দাবি তালিবান প্রশাসনের।

এছাড়া পাকতিকা প্রদেশের গিয়ান জেলায় আরেকটি বাড়িতে হামলায় ছয়জন, যাঁদের অধিকাংশই নারী ও শিশু, প্রাণ হারিয়েছেন। কুনার প্রদেশেও একটি বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সেখানে কোনও প্রাণহানি না হলেও প্রায় ৩০টি গবাদি পশু মারা যায় বলে জানিয়েছেন আফগান কর্মকর্তারা।

বাড়ছে সীমান্ত উত্তেজনা

গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইসলামাবাদ এই হামলাগুলির জন্য মূলত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলিকে দায়ী করছে। যদিও টিটিপি পৃথক সংগঠন, তবে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে পাকিস্তানের অভিযোগ।

এরই মধ্যে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদর দফতরে জঙ্গি হামলায় তিন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত এবং এক আহত জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যিনি আফগান নাগরিক। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানি তালিবান থেকে বিচ্ছিন্ন জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-আহরার।