কলকাতা:মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক বড় ঘোষণা করে (UCC Bill)রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২ জুলাই ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিলের খসড়া মন্ত্রিসভায় পেশ করা হবে। গুজরাট, অসম ও উত্তরাখণ্ডের মডেল অনুসরণ করে এই বিল তৈরি করা হয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়কে এর আওতার বাইরে রাখা হবে। কমিটির রিপোর্ট চার সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা। আগস্ট মাসে বিধানসভায় বিলটি পেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে আধুনিক ও সমতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে ইউসিসি অত্যন্ত জরুরি। আমরা অন্য রাজ্যের সফল মডেল দেখে এগোচ্ছি।” তাঁর মতে, এই আইন নারী অধিকার, সম্পত্তির সমান অধিকার এবং বিবাহ-বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনবে। রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করে এই খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আরও দেখুনঃ লুকোচুরি শেষ! কর্ণাটক থেকে ধৃত তৃণমূলের রমেন্দুকে বারমুডা প্যারেড পুলিশের
ইউসিসি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা সেই বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আদিবাসী সম্প্রদায়কে এই আইনের আওতায় আনা হবে না। এটি তাদের সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার জন্য করা হয়েছে। কমিটি চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। তারপর আগস্ট মাসে বিধানসভায় বিল পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে।
তাদের নেতারা বলছেন, এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারে হস্তক্ষেপ। একজন তৃণমূল নেতা বলেন, “এই আইন রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করবে। আমরা এর বিরোধিতা করব।” অন্যদিকে বিজেপি নেতারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, ইউসিসি দেশের সংবিধানের মূল আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
আদিবাসী নেতারা অবশ্য স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যে তাঁদের সম্প্রদায়কে এর আওতার বাইরে রাখা হচ্ছে।ইউসিসি নিয়ে জাতীয় স্তরেও আলোচনা চলছে। গুজরাট, অসম ও উত্তরাখণ্ড ইতিমধ্যে এই আইন চালু করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এই বিলের মাধ্যমে রাজ্যে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। বিবাহ, বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।



