লুকোচুরি শেষ! কর্ণাটক থেকে ধৃত তৃণমূলের রমেন্দুকে বারমুডা প্যারেড পুলিশের

হুগলি: সরকারি ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাৎ এবং অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি (Ramendu Singharay)দেওয়ার অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হলেন হুগলির তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রমেন্দু সিংহরায়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি…

ramendu-singharay-arrested-government-relief-scam-tarakeswar

হুগলি: সরকারি ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাৎ এবং অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি (Ramendu Singharay)দেওয়ার অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হলেন হুগলির তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রমেন্দু সিংহরায়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পুলিশের নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে কর্ণাটকের বেলাগাভি (বেলগাঁও) থেকে তাঁকে আটক করে ধনেখালি থানার পুলিশ। তাঁর সঙ্গে আরও এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ট্রানজিট রিমান্ডে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁদের পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং প্রকাশ্য রাস্তায় বারমুডা পরিয়ে প্যারেড করিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ জুন ধনেখালি থানার কোটালপুর এলাকায় রামেন্দু সিংহরায়ের মালিকানাধীন একটি বিএড কলেজে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল ত্রিপল, কম্বল, ডাস্টবিন-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ সামগ্রী। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই সমস্ত ত্রাণসামগ্রী সরকারি গুদাম থেকে বেআইনিভাবে সরিয়ে সেখানে মজুত করা হয়েছিল।

   

আরও দেখুনঃ অবশেষে NIA র হাতে লালকেল্লা বিস্ফোরণের মূল চক্রী শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ মুজাফফর!

অভিযোগ, ওই দিন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগ নিয়ে মোটর ভ্যানে করে এই সরকারি সামগ্রী অন্যত্র পাচারের চেষ্টা চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাধা দিতে গেলে রামেন্দু সিংহরায় আগ্নেয়াস্ত্র বের করে উপস্থিত বিজেপি সমর্থকদের ভয় দেখান এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এই ঘটনার পর থেকেই তিনি কার্যত গা-ঢাকা দেন।

ঘটনার পর ধনেখালি থানায় সরকারি সম্পত্তি চুরি, আত্মসাৎ এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁর সম্ভাব্য অবস্থান খুঁজতে একাধিক রাজ্যে তল্লাশি চালায়। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সাহায্যে মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করে কর্ণাটকের বেলাগাভিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, তদন্তের স্বার্থে রমেন্দু সিংহরায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ধার হওয়া সরকারি ত্রাণ সামগ্রী কোথা থেকে এল, এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং কোনও বড় চক্র এর পিছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে।