Vegetable Prices Soar: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যেই অনুভব করেছেন সাধারণ মানুষ। তবে এর পাশাপাশি শাকসবজির দামেও ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘এল নিনো’-র প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কারণে শাকসবজির দাম আরও বাড়তে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসে ১৭টি প্রধান শাকসবজির মধ্যে ৮টিরই দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; এর মধ্যে টমেটোর দাম সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মে মাসে সবজি-জাতীয় পণ্যের (যার মধ্যে সবজি, কলা ও ডাল অন্তর্ভুক্ত) মূল্যস্ফীতির হার এপ্রিলের ৪.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই হার খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি (৪.৭৮ শতাংশ) এবং খুচরো মূল্যস্ফীতির হার (৩.৯৩ শতাংশ)—উভয়ের চেয়েই বেশি।
Also Read | অষ্টম বেতন কমিশন: ২.১০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা! কতটা বাড়বে বেতন?
সবজির দাম কেমন?
মে ও জুন মাসের মধ্যে খুচরো বাজারে লেবু, মটরশুঁটি, বেগুন, গাজর, বাঁধাকপি, কাঁচা মরিচ ও ফ্রেঞ্চ বিনের মতো সবজির দাম প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সাধারণত জুন-সেপ্টেম্বর মাসের বর্ষা মৌসুমের আগেই সবজির চারা তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়; তবে এবার বর্ষা দেরিতে আসায় এবং তাপমাত্রা বেশি থাকায় চারা রোপণ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে আগামী মাসগুলোতে সবজির দাম বেড়ে যেতে পারে এবং বাজারে এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
শাকসবজি ও ভোজ্য তেলের দাম বাড়তে পারে
একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে খাদ্য ও পানীয়ের মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় ০.৯ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে এপ্রিল মাসে এই বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ। শাকসবজির দাম যদি এই হারে বাড়তেই থাকে, তবে খাদ্য মূল্যস্ফীতির ওপর আরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ‘বিজনেসলাইন’-এর তথ্য অনুযায়ী, কেয়ারএজ (CareEdge)-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ রজনী সিনহা জানিয়েছেন যে, আগের এল নিনো বছরগুলোর তুলনায় এবার খাদ্যশস্যের বাফার স্টক বা মজুত পরিস্থিতি অনেক বেশি শক্তিশালী; তবে খাদ্যপণ্যের—বিশেষ করে শাকসবজি, ডাল ও ভোজ্য তেলের—দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা দিতে পারে।
Also Read | দাম কমতেই সোনা বিক্রির ধুম! লাভের আশায় আমজনতা
এল নিনোর প্রভাব কী হবে?
এল নিনোর কারণে এ বছর মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৩ শতাংশ কম হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে খরিফ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে উদ্যানতত্ত্ববিদদের মতে, বৃষ্টিপাতের এই ঘাটতিতে ফল চাষ খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও শাকসবজি চাষের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।



