ঢাকা: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই যেন বাংলাদেশের মন খারাপ (Nahid Islam)। প্রত্যেকদিন ভারত বিরোধী মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সংসদে আলোচনা এখন হট টপিক। এই আবহেই ফের বেফাঁস মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, কলকাতা পূর্ববঙ্গের অর্থে গড়ে উঠেছে, ১৯৪৭ সালে তাঁরা ‘পশ্চিমবঙ্গ জয়’ করেছেন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ করেছিলেন।
একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন নিয়ে তাঁর বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই মন্তব্য রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টির (এনসিপি) নেতা এবং জামাতের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের মধ্য দিয়ে কিছু মহল ইতিহাস বিকৃত করছে।
আরও দেখুনঃ
তাঁর দাবি, কলকাতার উন্নয়নে পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি আরও বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ ‘জয়’ করেছেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ইসলামবিরোধী বলে অভিহিত করে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ভূমিকার কারণেই বাংলা দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। এই বক্তব্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলো এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, এটি ইতিহাস বিকৃতির চরম উদাহরণ। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা ভাগের প্রবল সমর্থক, কারণ তিনি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তাঁরা মনে করেন, নাহিদ ইসলামের বক্তব্য দ্বিজাতি তত্ত্বের পুরনো বিষ ছড়াচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এ ধরনের মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য নষ্ট করবে।ইতিহাসবিদরা অবশ্য এই দাবিগুলোকে তথ্যগতভাবে ভুল বলে উল্লেখ করেছেন। কলকাতা ব্রিটিশ আমলে জয়পুরিয়া, মারোয়াড়ি, গুজরাটি, আর্মেনিয়ানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীদের অবদানে গড়ে উঠেছিল। পূর্ববঙ্গের অর্থনৈতিক অবদান ছিল, কিন্তু তা একতরফা নয়। ১৯৪৭ সালের ভাগ ছিল ধর্মের ভিত্তিতে, যা লর্ড মাউন্টব্যাটেনের পরিকল্পনা অনুসারে হয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা ছিল বাঙালি হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষা করা। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন অনেকের কাছে স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক।



