মালদা: মালদা জেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে (Malda)নাবালিকা ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বড় ধরনের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক সাকলিন আহমেদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। হাবিবপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তদন্ত অনুসারে, সাকলিন আহমেদ ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী ছোট ছোট মেয়েদের ক্লাসরুমে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুসারে, শিক্ষক ছাত্রীদের পড়ানোর নাম করে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে অশ্লীল আচরণ করতেন। নিৰ্যাতিত শিশুরা এই শিক্ষকের কুকর্মের কথা বাড়িতে জানায়। শিশুদের কথায় অভিভাবকরা হতবাক হয়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সাকলিন আহমেদকে গ্রেফতার করে।
আরও দেখুনঃ মহরমকে কেন্দ্র করে মেটিয়াবুরুজে কংগ্রেসের দুই মুসলিম নেতার হাতাহাতি
হাবিবপুরের এই এলাকাটি আদিবাসী অধ্যুষিত। বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী আদিবাসী পরিবার থেকে আসে। প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা যেখানে পড়াশোনা করে সেখানেই এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয় মানুষের মনে গভীর আঘাত লেগেছে। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, তাঁরা শিক্ষকের উপর ভরসা করে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতেন। এই বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ায় তাঁরা চরম ক্ষুব্ধ।পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইন যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শিশুদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুদের মানসিক সুস্থতার জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন এমন ঘটনা চললেও স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় শিক্ষার হার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, সেখানে এমন নৃশংস ঘটনা সামাজিকভাবে বড় ধাক্কা দিয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং দ্রুত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে এবং যদি আরও কোনো ব্যক্তির যোগসাজশ পাওয়া যায়, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।



