বিধানসভায় আসছে UCC! ‘বাংলাদেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে’, তোপ দিলীপের

কলকাতা: দেশে চতুর্থ রাজ্য হিসেবে এবার বাংলাতেও চালু হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC)। নয়া এই আইন কার্যকর হলে ধর্ম নির্বিশেষে…

Dilip Ghosh slams tmc

কলকাতা: দেশে চতুর্থ রাজ্য হিসেবে এবার বাংলাতেও চালু হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC)। নয়া এই আইন কার্যকর হলে ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত নারী ও পুরুষের জন্য সমান অধিকার সুনিশ্চিত হবে বলে জানানো হয়েছে। আগামী সোমবারই রাজ্য বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ করা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং এই বিলের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন। (West Bengal Uniform Civil Code)

কী থাকছে এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে?

খসড়া আইন অনুযায়ী, রাজ্যে বেশ কিছু বড়সড় সামাজিক ও আইনি পরিবর্তন আসতে চলেছে৷ সব ধর্মের মানুষের জন্য বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, জমি-সম্পত্তি এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অভিন্ন আইন চালু হবে। ধর্ম নির্বিশেষে পুরুষদের বহুবিবাহ বা একাধিক বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

   

‘লিভ ইন’ (Live-in) সম্পর্ককে সরকারিভাবে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করে তা সরাসরি আইনের আওতায় আনা হবে। ধর্মীয় বিধান বা প্রথার দোহাই দিয়ে কোনওভাবেই নারীর আইনি ও সামাজিক অধিকার খর্ব করা যাবে না।

‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ নিয়ে সরব দিলীপ ঘোষ

রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর এই খবরের মাঝেই ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ ইস্যুতে কড়া ভাষায় সরব হয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের ডেমোগ্রাফি বা জনসংখ্যার বিন্যাস বদলে ফেলার এক সুপরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে।

দিলীপ ঘোষ বলেন, “অন্যান্য অনেক রাজ্যেই এই আইন আনা হয়েছে। লাভ জিহাদের মাধ্যমে জনসংখ্যার বিন্যাস বদলে ফেলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে জমি মাফিয়াদের দাপট। সরকারি জমি প্রায় নেই, খাল-বিল-নদী-নালাও দখল হয়ে যাচ্ছে। ল্যান্ড জিহাদের চক্রান্ত চলছে। বাংলা ও দেশকে বাংলাদেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে।” তাঁর মতে, এই ধরনের সামাজিক ব্যাধি দূর করার জন্যই কঠোর আইনের প্রয়োজন।

‘হিন্দু সমাজ বিপন্ন, সুরক্ষা কবচ প্রয়োজন’

রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে দিলীপ ঘোষ আরও অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু সমাজ এখন বিপন্ন এবং তাদের জন্য অবিলম্বে একটি সুরক্ষা কবচ দরকার। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি লোক এসে জমিজায়গা দখল করে সরকারি সুবিধা নিয়ে বসে আছে। এরা এখানকার জনসংখ্যা পাল্টে দিচ্ছে। সেগুলো করতে কোনওভাবেই আর অনুমতি দেওয়া হবে না।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, সোমবার বিধানসভায় এই বিল পেশ হলে তা নিয়ে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে জোরদার বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত সকলের নজর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিবৃতির দিকে।