হিন্দু থেকে মুসলিম হওয়া ব্যাক্তিরা পাবেন না সংরক্ষণের সুবিধা! নির্দেশ মাদ্রাস হাইকোর্টের

চেন্নাই: তামিলনাড়ু সরকারের একটি বিতর্কিত সরকারি আদেশ (জিও) কে (Madras)সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ঘোষণা করে খারিজ করে দিল মাদ্রাস হাইকোর্ট। বিচারপতি জি.আর. স্বামীনাথনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের এই রায়ে…

madras-hc-convert-reservation

চেন্নাই: তামিলনাড়ু সরকারের একটি বিতর্কিত সরকারি আদেশ (জিও) কে (Madras)সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ঘোষণা করে খারিজ করে দিল মাদ্রাস হাইকোর্ট। বিচারপতি জি.আর. স্বামীনাথনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের এই রায়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিরা আর নিজেদের পূর্ববর্তী জাতি-ভিত্তিক সংরক্ষণ সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।

তাঁরা শুধুমাত্র ‘মুসলিম’ হিসেবেই গণ্য হবেন।রায়ে আদালত জানিয়েছে, ধর্মান্তরণের পর কোনো ব্যক্তি আর পুরনো ধর্মের জাতিগত পরিচয় বহন করতে পারেন না। একজন মুসলিম হয়ে গেলে তিনি ‘শুধুমাত্র একজন মুসলিম’ এই নীতি সুপ্রিম কোর্টের আগের রায়েও স্বীকৃত। তামিলনাড়ু সরকারের নির্বাহী আদেশ দিয়ে এই সুপ্রিম কোর্টের বাঁধানো নীতিকে ওভাররাইড করা যায় না।

   

আরও দেখুনঃ সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন! তিন দিনের সরকারি সফরে সেশেলসে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী

আদালত এই জিও-কে ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘অইসলামিক’ বলেও অভিহিত করেছে।ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল তামিলনাড়ু সরকারের একটি সাম্প্রতিক সরকারি আদেশ থেকে। ওই আদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনগ্রসর জাতি থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের ‘ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস মুসলিম’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা, চাকরি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

সরকারের যুক্তি ছিল, ধর্মান্তরিতরা সমাজে এখনও পিছিয়ে আছেন, তাই তাঁদের পুরনো জাতিগত অবস্থান বিবেচনা করে সুবিধা দেওয়া উচিত। কিন্তু এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয় আদালতে।বিচারপতি স্বামীনাথনের বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, ইসলাম ধর্মে জাতিভেদ নেই। ধর্মান্তরণ মানে পুরনো ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়া। যদি কেউ হিন্দু থেকে মুসলিম হন, তাহলে তাঁর আর ‘পারিয়া’ বা ‘থিয়্যা’ বা অন্য কোনো হিন্দু জাতির সুবিধা দাবি করার অধিকার থাকে না।

আদালত আরও জানিয়েছে, এই ধরনের নির্বাহী আদেশ আসলে সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মূল চেতনাকেও আঘাত করে।রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি ও অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে।

তাঁরা বলছেন, এটি ‘ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি’র বিরুদ্ধে একটি বড় আঘাত। অন্যদিকে, কিছু মুসলিম সংগঠন ও দল এই রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাঁদের দাবি, ধর্মান্তরিতরা সমাজে এখনও বৈষম্যের শিকার হন, তাই তাঁদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা দরকার।