নয়াদিল্লি: ভারতের মহাকাশ খাতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে (PSLV)। মোদী সরকার পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল (পিএসএলভি) রকেটের প্রযুক্তি বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করছে। শুধুমাত্র যেসব কোম্পানি সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে ভারতীয় মালিকানাধীন এবং ভারতীয় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাদেরকেই এই প্রযুক্তি দেওয়া হবে। এই উদ্যোগ ভারতকে ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিশ্বের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের মহাকাশ খাতে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো এখন পিএসএলভির মতো নির্ভরযোগ্য রকেট তৈরি ও উৎক্ষেপণ করতে পারবে। ফলে দেশীয় রকেট উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, খরচ কমবে এবং ছোট ছোট স্যাটেলাইট লঞ্চের জন্য ভারতের ওপর বিশ্বের নির্ভরতা বাড়বে।ইসরোর সবচেয়ে সফল ও নির্ভরযোগ্য রকেটগুলোর মধ্যে পিএসএলভি অন্যতম।
আরও দেখুনঃ বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ-চিকিৎসার ওষুধ পাঠাল মোদী সরকার
এখন পর্যন্ত এটি ৬০টিরও বেশি সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুটি মিশনে সাময়িক বিপত্তি ঘটলেও পিএসএলভির সামগ্রিক ট্র্যাক রেকর্ড অত্যন্ত শক্তিশালী। এই রকেট দিয়ে ইসরো বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছে। এখন সেই প্রযুক্তি বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ভারত মহাকাশ শিল্পকে আরও গতিশীল করতে চায়।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানিগুলোকেই এই প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হবে যাতে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ অটুট থাকে। এর ফলে দেশীয় স্টার্টআপ ও বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো মহাকাশ খাতে বিনিয়োগ বাড়াবে। ইতিমধ্যে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমসের মতো কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ছোট রকেট তৈরিতে সাফল্য দেখিয়েছে।
পিএসএলভি প্রযুক্তি পেলে তাদের সক্ষমতা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।এই উদ্যোগের ফলে ভারত বিশ্ববাজারে ছোট স্যাটেলাইট লঞ্চের একটি প্রধান হাব হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে অনেক দেশ তাদের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভর করে। ভারত যদি সাশ্রয়ী মূল্যে নির্ভরযোগ্য সেবা দিতে পারে, তাহলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও পূরণ হবে দ্রুত।
মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত ইসরোর ওপর চাপ কমাবে। ইসরো তখন আরও বড় বড় মিশন ও গবেষণায় মনোযোগ দিতে পারবে, আর বেসরকারি সংস্থাগুলো রুটিন লঞ্চগুলো সামলাবে। ফলে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি আরও দ্রুত ও বহুমুখী হয়ে উঠবে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরর দূরদর্শী নেতৃত্বে মহাকাশ খাতকে বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার এই পদক্ষেপ ‘আত্মনির্ভর ভারত’কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা সবকিছুরই এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে এই উদ্যোগ।



