বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: ঘানার ফুটবল দল ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট অর্জন করেছে ‘ব্ল্যাক স্টারস’। কিন্তু ম্যাচের ফলাফলের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে এক বিতর্কিত ব্যক্তির মন্তব্য। তিনি ঘানার স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক গুরু ও ওঝা কোয়াকু বনসাম (Kwaku Bonsam)। তাঁর দাবি, নিজের জাদুটোনার মাধ্যমেই তিনি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনকে (Harry Kane) কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিলেন।
ম্যাচের আগে এক সাক্ষাৎকারে কোয়াকু বলেছিলেন, তিনি বিশেষ মন্ত্রের মাধ্যমে হ্যারি কেনকে আটকে রেখেছেন যাতে ঘানার বিরুদ্ধে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে না পারেন। তাঁর কথায়, তিনি কখনওই কেনের বড় ধরনের ক্ষতি চাননি, শুধু চেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের এই তারকা ফুটবলার যেন ম্যাচে কার্যকর ভূমিকা নিতে না পারেন। ম্যাচে হ্যারি কেন ছয় গজ দূর থেকে সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন এবং ইংল্যান্ড গোল করতে ব্যর্থ হয়। এরপরই কোয়াকু দাবি করেন, এই ঘটনাগুলোর নেপথ্যে তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাব রয়েছে।
Also Read | শেষ মুহূর্তের গোলে আমেরিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ তুরস্কের
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, এবার তিনি হ্যারি কেনকে ‘মুক্ত’ করে দিয়েছেন, যাতে পরবর্তী ম্যাচে গোল করতে পারেন। এমনকি কেনের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, তিনি যেন রাগ না করেন, কারণ দু’জনই নাকি ভাইয়ের মতো। নিজের এই কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ এবং আধ্যাত্মিক শক্তির কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আধ্যাত্মবাদী ব্যক্তি বলেও দাবি করেন।
কোয়াকু বনসামের নামের অর্থ ‘বুধবারের শয়তান’। তাঁর দাবি, ঘানার এক প্রত্যন্ত গ্রামের ‘কোফি অ্যান্ড কোফি’ আশ্রম থেকে তিনি অলৌকিক শক্তি অর্জন করেছেন। সেই শক্তির সাহায্যে তিনি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের উপর প্রভাব ফেলতে সক্ষম। এর আগেও তিনি এমন দাবি করেছিলেন। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে তাঁর বক্তব্য ছিল, তাঁর জাদুটোনার কারণেই পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর হাঁটুর সমস্যা বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ঘানার বিরুদ্ধে রোনাল্ডো যেন ভালো খেলতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই তিনি এই আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করেছিলেন।
তবে কোয়াকুর এই সমস্ত বক্তব্যের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞান কিংবা ক্রীড়াবিজ্ঞান—কোনও ক্ষেত্রেই তাঁর দাবির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই তাঁর মন্তব্যকে নিছক ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও প্রচারের অংশ হিসেবেই দেখা হয়।
ঘানার রাজধানী আক্রায় কোয়াকু বনসাম একাধিক উপাসনালয় পরিচালনা করেন। তিনি নিজেকে ‘দ্য গ্রেট অথেন্টিক ম্যান’ নামে পরিচয় দেন। তাঁর দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ তাঁর কাছে আধ্যাত্মিক পরামর্শ নিতে আসেন। নিউ ইয়র্ক, আমস্টারডাম, বার্লিন ও ইতালিসহ নানা দেশে তিনি সফরও করেছেন। তাঁর ওয়েবসাইটে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনও তুলে ধরা হয়েছে।
আধ্যাত্মিক গুরু হওয়ার পাশাপাশি কোয়াকু নিজেকে একজন ভেষজ চিকিৎসক বলেও পরিচয় দেন। তাঁর দাবি, আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী ভেষজ চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যার সমাধান করে আসছেন। যদিও তাঁর এই দাবিগুলোরও কোনও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি নেই। তবু বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।



