কোপেনহেগেন: ইউরোপ জুড়ে যখন অভিবাসন, (Denmark)সামাজিক সংহতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই ডেনমার্কে আবারও সামনে এসেছে মসজিদ থেকে লাউডস্পিকারে আজান সম্প্রচার বন্ধের প্রস্তাব। দেশের অভিবাসন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অবস্থান নেওয়া ডেনিশ প্রশাসন এবার এই বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করছে। সরকারের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী মর্টেন বোডস্কভ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দেশের কিছু অঞ্চলে ইসলামি প্রভাব বা “ইসলামাইজেশন” নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, মসজিদ থেকে লাউডস্পিকারে আজান সম্প্রচার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় শোনা যায়, যা অনেক বাসিন্দার কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের ধর্মীয় শব্দ সম্প্রচার ডেনমার্কের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আরও দেখুনঃ জ্বলছে PoK! বিক্ষোভ দমাতে ভাতে মারার অমানবিক কৌশল পাকিস্তানের
মর্টেন বোডস্কভ আরও বলেন, “ডেনমার্কের বাড়ির ছাদ থেকে আজানের আওয়াজ আমাদের সমাজের সঙ্গে খাপ খায় না। এমন পরিস্থিতি হওয়া উচিত নয় যাতে মানুষ রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে মনে করেন তাঁরা যেন ইসলামাবাদের কোনও শহরতলিতে এসে পড়েছেন।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
ডেনমার্কে মুসলিম জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ। সংখ্যায় তুলনামূলকভাবে কম হলেও তারা দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। গত কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসন বৃদ্ধির পর থেকেই একীভূতকরণ, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই আজান সম্প্রচারের প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যেই ইউরোপের অন্যতম কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছে। অবৈধ অভিবাসন রোধ, শরণার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে একাধিক আইন কার্যকর হয়েছে। এর আগে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক, বিশেষ করে বোরখা বা নিকাব ব্যবহারের উপরও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক স্তরেও ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
এবার লাউডস্পিকারে আজান সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত একইভাবে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির বক্তব্য, যদি সরকার এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে, তবে তা ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলতে পারে। তাঁদের মতে, সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে এবং কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচরণকে সীমাবদ্ধ করা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে সরকারের সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন, এই প্রস্তাব কোনও নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে নয়। তাঁদের দাবি, জনপরিসরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, নাগরিকদের স্বস্তি বজায় রাখা এবং দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একই নিয়ম যদি অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়, তাহলে এটিকে বৈষম্যমূলক বলা যায় না বলেও তাঁদের মত।



