CAB অ্যাপেক্স কাউন্সিল থেকে ইস্তফা আশিস চক্রবর্তীর, জোরাল বয়সসীমা বিতর্ক

নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিল থেকে সরে দাঁড়ালেন আশিস চক্রবর্তী। লোধা কমিটির বয়সসীমা নিয়েও নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

ashis-chakraborty-resigns-cab-apex-council-lodha-rule

বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল CAB)-এর অন্দরে চলতে থাকা নানা বিতর্কের মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য আশিস চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার তিনি নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সিএবি মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও, তাঁর সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে নৈতিকতার প্রশ্ন এবং লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ক্রিকেট প্রশাসকদের বয়সসীমা সংক্রান্ত বিষয়টি।

সূত্রের খবর, আশিস চক্রবর্তী লিখিতভাবে সিএবি সভাপতি Sourav Ganguly-কে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য হিসেবে যে পরিমাণ সময় ও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।

   

তবে বিষয়টি শুধুমাত্র সময়ের অভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আশিস নিজেই জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিনি নিজের বয়স এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করেন। সরকারি নথি অনুযায়ী তাঁর ৭০ বছর পূর্ণ হবে আগামী জানুয়ারিতে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি গত ১৩ জুনই ৭০ বছরে পা দিয়েছেন। সেই কারণেই তিনি মনে করেছেন, নৈতিকতার দিক থেকে পদে থেকে যাওয়া উচিত হবে না।

লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, কোনও ক্রিকেট প্রশাসকের বয়স ৭০ বছর অতিক্রম করলে তিনি প্রশাসনিক পদে থাকতে পারবেন না। ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর একাধিক ক্ষেত্রে বয়সসীমা নিয়ে বিতর্ক দেখা গিয়েছে। আশিস চক্রবর্তীর মতে, কাগজে-কলমে এখনও যোগ্যতা থাকলেও বাস্তব বয়স ৭০ পেরিয়ে যাওয়ার পর পদে থাকা তাঁর বিবেক মেনে নেয়নি। সেই কারণেই তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সিএবির প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠছে। কিছুদিন আগেই বয়সসীমা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যুগ্ম সচিব মদন ঘোষকে পদ ছাড়তে হয়েছে। সেই পদে নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। ফলে আশিস চক্রবর্তীর পদত্যাগ প্রশাসনিক মহলে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তাঁর এই সিদ্ধান্তের পরই ক্রিকেট মহলের একাংশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে অন্যান্য কর্মকর্তাদের বয়স নিয়ে। বিশেষ করে সিএবির সহ-সভাপতি নীতীশরঞ্জন দত্তকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। বিভিন্ন নথিতে তাঁর বয়স নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে এসেছে। একাধিক সূত্র দাবি করছে, ভোটার তালিকা ও অন্যান্য কিছু সরকারি নথিতে তাঁর বয়স ৭০ বছরের বেশি দেখানো হলেও, পাসপোর্ট এবং আরও কিছু সরকারি নথিতে তাঁর বয়স এখনও ৬৯ বছর বলে উল্লেখ রয়েছে।

এই বৈপরীত্যই এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ক্রিকেটমহলের প্রশ্ন, একজন ব্যক্তির বয়স সম্পর্কে যদি ভিন্ন ভিন্ন সরকারি নথিতে আলাদা তথ্য থাকে, তাহলে কোন তথ্যকে চূড়ান্ত ধরা হবে? প্রশাসনিক পদে থাকার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আশিস চক্রবর্তীর পদত্যাগ তাই শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং সিএবির অন্দরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং লোধা সংস্কারের যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্কের দরজা খুলে দিয়েছে। আগামী দিনে এই প্রশ্নগুলির উত্তর কীভাবে মেলে, সেদিকেই নজর থাকবে বাংলা ক্রিকেট মহলের।