নয়াদিল্লি: এবার এলপিজি সিলিন্ডারের (ethanol)ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রান্নাঘরকে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করতে বড় উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। দৈনিক ভাস্করের রিপোর্ট অনুসারে, সরকার ইথানল-ভিত্তিক ‘সুপার ব্লু’ নামের একটি উন্নত রান্নার স্টোভের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছে। এই স্টোভ চালাতে লাগবে শুধু ইথানল, যা এক লিটারেই টানা ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত রান্না করতে পারবে।
অন্যদিকে সমপরিমাণ এলপিজি সিলিন্ডার সাধারণত মাত্র ৩ ঘণ্টা চলে। এই তথ্য যদি বাস্তবে সত্যি হয়, তাহলে এটি ভারতের রান্নার জ্বালানি ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।বর্তমানে দেশের লক্ষ লক্ষ পরিবার এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি মাসে সিলিন্ডারের দাম, সরবরাহের অসুবিধা এবং আমদানি নির্ভরতা অনেক পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও দেখুনঃ পাসপোর্ট মানেই নাগরিকত্ব নয়! বিদেশ মন্ত্রকের ঘোষণায় বিতর্ক
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি বলেছেন বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা ও ছোট শহরের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগে। এই পরিস্থিতিতে ইথানল-চালিত স্টোভ আসলে খরচ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারবে। ইথানল মূলত আখ, ভুট্টা বা অন্যান্য কৃষিজাত বর্জ্য থেকে তৈরি হয়। ভারত ইতিমধ্যে ইথানল উৎপাদনে বড় অগ্রগতি করেছে এবং জ্বালানি মিশ্রণে এর ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
এখন সেই ইথানলকে রান্নাঘরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে।‘সুপার ব্লু’ স্টোভের বিশেষত্ব হলো এর দক্ষতা ও নিরাপত্তা। সাধারণ কেরোসিন বা এলপিজি স্টোভের তুলনায় এতে ধোঁয়া অনেক কম হয়। ফলে রান্নাঘরের ভেতরকার বায়ু দূষণ কমবে, যা নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী। অনেক গ্রামীণ নারী এখনও কাঠ বা কয়লার চুলায় রান্না করে শ্বাসকষ্ট ও চোখের সমস্যায় ভোগেন।
এই নতুন স্টোভ সেই সমস্যার সমাধান দিতে পারে। এক লিটার ইথানলে ১৫ ঘণ্টা রান্নার দাবি সত্যি হলে, একটি সাধারণ পরিবারের মাসিক জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ব্লুপ্রিন্ট তৈরির কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।
বিভিন্ন ল্যাবে পরীক্ষা চলছে এবং কয়েকটি রাজ্যে পাইলট প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদন যদি স্থানীয় পর্যায়ে হয়, তাহলে কর্মসংস্থানও বাড়বে। আখচাষী ও কৃষকরা নতুন বাজার পাবেন।তবে এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। প্রথমত, ইথানলের সরবরাহ নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, স্টোভের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা। তৃতীয়ত, নিরাপত্তা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা। ইথানল দাহ্য পদার্থ, তাই সঠিক ব্যবহার না করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরকারকে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি চালাতে হবে।



