তারাতলার (Taratala) একটি কারখানার ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। দুর্ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ করেছে লালবাজার। পুরো ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পাঁচ সদস্যের এই সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন ডিসিডিডি (DC DDD)-র একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব এবং সম্ভাব্য অবহেলার দিক খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত খুন, খুনের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
অ্যাডিশনাল সিপি (ক্রাইম) (Taratala) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য গাফিলতি ও দায় নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর থেকেই (Taratala) কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্তভার গ্রহণ করেছে। গোটা ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে ছাদ ভেঙে পড়ল, নির্মাণে কোনও ত্রুটি ছিল কি না, কিংবা নিয়ম মেনে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল কি না সব দিকই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে কাঠামোগত দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কারখানার নকশা ও অনুমোদন সংক্রান্ত নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, কলকাতা পুরনিগম (KMC)-এর কাছেও এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাওয়া হয়েছে। কারখানাটির অনুমোদন, ভবনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং নিয়মিত পরিদর্শনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রশাসনিক গাফিলতির কোনও দিক আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই ছাদ ভেঙে পড়ায় আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
অ্যাডিশনাল সিপি কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, “ঘটনার প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনিচ্ছাকৃত খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।”
এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কারখানাটির রক্ষণাবেক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে ঠিকভাবে করা হচ্ছিল না। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই করা হচ্ছে।



