মুষলধারে বৃষ্টিকেও উপেক্ষা, তারাতলায় জোরকদমে উদ্ধার অভিযান

কলকাতা ও শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চলছে টানা প্রবল বৃষ্টি। সেই সঙ্গে দফায় দফায় বজ্রপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও…

Rescue Teams Push Ahead in Taratala Amid Severe Rainfall

কলকাতা ও শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চলছে টানা প্রবল বৃষ্টি। সেই সঙ্গে দফায় দফায় বজ্রপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও তারাতলা (Taratala) এলাকায় উদ্ধারকাজ থেমে নেই। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই নিরবচ্ছিন্নভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকেই তারাতলা এলাকায় জল জমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়(Taratala) এবং কিছু এলাকায় জরুরি উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় NDRF-এর একাধিক দল। শুরু হয় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান।

   

বৃষ্টির কারণে(Taratala) উদ্ধারকাজে একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। ভেজা ও পিছল জমি, কম দৃশ্যমানতা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি  সব মিলিয়ে কাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। তবুও উদ্ধারকারীরা নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।

NDRF সূত্রে জানা গিয়েছে,(Taratala) প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে আটকে থাকা মানুষদের নিরাপদে উদ্ধার করা। পাশাপাশি এলাকায় যাতে আর কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চলছে। উদ্ধারকর্মীরা রাবার বোট, দড়ি ও বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে জলমগ্ন এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, হঠাৎ করে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ায় তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। জল বাড়তে থাকায় অনেক জায়গায় ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোয় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন তাঁরা।

একজন বাসিন্দা জানান, “বৃষ্টি এত বেশি ছিল যে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। হঠাৎ করেই জল ঢুকে যায়। পরে উদ্ধারকারী দল এসে আমাদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যায়।” অন্যদিকে প্রশাসনের তরফেও মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস আরও চিন্তা বাড়িয়েছে। জানা যাচ্ছে, আগামী কয়েক ঘণ্টা কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকার্যের গতি প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

NDRF-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল। তবুও আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষের জীবন বাঁচানোই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। তবে বৃষ্টি আরও বাড়লে কিছু সময়ের জন্য কাজ থামাতে হতে পারে, কারণ নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” প্রশাসনের পক্ষ থেকেও স্থানীয় মানুষদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে জলমগ্ন এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদ স্থানে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।