১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা! তারাতলায় ৯ জনের মৃত্যুতে কাঠগড়ায় কে?

কলকাতা/তারাতলা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনে ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় লাফিয়ে বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে…

Suvendu Adhikari’s Delhi Visit Sparks Talk of High-Level Discussions

কলকাতা/তারাতলা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনে ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় লাফিয়ে বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে হতাহতদের পরিবারের জন্য বড়সড় আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। একইসঙ্গে এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের দায় সম্পূর্ণভাবে আগের সরকার এবং প্রাক্তন মেয়রের ঘাড়ে চাপিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। (Taratala Roof Collapse Compensation Announced)

হতাহতের সর্বশেষ আপডেট ও ক্ষতিপূরণ

দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজ প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ২০ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, ৪ জন গুরুতর এবং ১ জন অত্যন্ত সঙ্কটজনক (রেড জোন) অবস্থায় রয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং গুরুতর আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “যদিও মৃত্যুর কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না, তবুও সরকার এই বিপদের দিনে পরিবারগুলির পাশে রয়েছে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”

   

উদ্ধারকাজে সেনা ও এনডিআরএফ

মুখ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গে কথা বলে তিনি দুর্ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছেন। বর্তমানে এনডিআরএফ (NDRF) এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বেশ কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল।

পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ

এই বিপর্যয়ের জন্য আগের সরকারকে সরাসরি নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গার্ডেনরিচ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এসব আপনাদের পাপের ফল। সব জায়গায় টাকা নিয়ে কলকাতাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছেন। গার্ডেনরিচে ১৪ জন চাপা পড়ে মারা গিয়েছিল, একজনকেও উদ্ধার করতে পারেননি। কখনও এনডিআরএফ বা আর্মিকে ডাকেননি। ওই ফাইলে আপনার প্রাক্তন মেয়রের সই আছে।” আগের সরকারের আমলে ভারী বিম কাটার কোনও মেশিন রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নেপথ্যে প্রভাবশালী যোগ ও এফআইআর

বেআইনি এই নির্মাণের নেপথ্যে প্রভাবশালী যোগের কথা তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রোমোটার আসগর হুসেনের নাম উল্লেখ করে বলেন, “আমি চাইব তিনি জীবিত বেরোন।” যদিও সূত্রের খবর, ওই গোডাউনের লোহার ছাদ ভেঙে পড়ায় প্রোমোটারেরও মৃত্যু হয়েছে।

পাশাপাশি, প্রাক্তন মেয়রের আপ্তসহায়ক ‘কালী’-র নাম প্রকাশ্যে এনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই ব্যক্তি না বললে কলকাতা কর্পোরেশনে কোনও প্ল্যান পাশ হত না এবং তিনিই বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবনে সব পাঠাতেন। ইতিমধ্যেই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করে কড়া আইনি পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে প্রশাসন। দোষী কাউকেই ছাড়া হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।