নয়াদিল্লি: হাওড়া (গ্রামীণ) এলাকার আমতায় ২০২২ সালের ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ (bomb blast)মামলায় জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে সংস্থাটি দুই প্রধান অভিযুক্ত আসফার মিদ্যা ও এন্তাজুল মিদ্যাকে গ্রেফতার করেছে। আমতা এলাকারই বাসিন্দা এই দুই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের নির্দেশে চন্দ্রপুর বাজারের কাছে অবৈধভাবে ক্রুড বোমা তৈরি করা হচ্ছিল।
২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আমতা থানা এলাকায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। বোমা তৈরির সময় হঠাৎ বিস্ফোরণে জাহাধার মোল্লা, মোহাব্বত মোল্লা, মইনুর রহমান ও শেখ মহরম গুরুতর আহত হন। পরে শেখ মহরম আঘাতের কারণে মারা যান। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে মামলাটি এনআইএ-র হাতে আসে।
আরও দেখুনঃ ইডির নজরে শান্তনু-ঘনিষ্ঠ ৩ অফিসার, তলব সোনা পাপ্পুর স্ত্রীকেও
এরপর থেকেই সংস্থাটি গভীর তদন্ত শুরু করে।এনআইএ সূত্র জানিয়েছে, আসফার ও এন্তাজুল মিদ্যা এই বোমা তৈরির পুরো অপারেশন নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। তাঁদের নির্দেশেই স্থানীয় এলাকায় বোমা তৈরি চলছিল এবং সেগুলো এলাকায় মানুষকে ভয় দেখানো ও সন্ত্রাস সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। বুধবার তিনটি সন্দেহভাজন আস্তানায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
এরপরই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।এর আগে এই মামলায় (আরসি-০৮-২০২৪/এনআইএ/ডিএলআই) চারজনকে গ্রেফতার করে চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে। এনআইএ-র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিল, কাদের কাছে বোমা সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল সবকিছুই খতিয়ে দেখা হবে।
আমতা এলাকায় এই গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বোমা তৈরির চক্র ভাঙতে পেরে এলাকায় স্বস্তি ফিরবে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চলছিল।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বিস্ফোরণের পর থেকেই এলাকায় ভয়ের পরিবেশ ছিল। অনেকেই জানত যে কিছু একটা চলছে, কিন্তু মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এখন এনআইএ-র হাতে মামলা যাওয়ায় আশা করছি পুরো সত্য বেরিয়ে আসবে।”হাওড়া জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এনআইএ-কে পুরোপুরি সহযোগিতা করা হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।



