কুরআনি আইনের কিছু অংশ গ্রহণ করুক ভারত! বিস্ফোরক মহারাষ্ট্রের মুসলিম বিধায়ক

মুম্বই: মহারাষ্ট্রের এনসিপি বিধায়ক সানা মালিক (Sana Malik)একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “পাকিস্তানে কুরআনি আইন…

sana-malik-quranic-law-remarks

মুম্বই: মহারাষ্ট্রের এনসিপি বিধায়ক সানা মালিক (Sana Malik)একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “পাকিস্তানে কুরআনি আইন কার্যকর রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, তার কিছু অংশ ভারতেও গ্রহণ করা উচিত। বহুবিবাহ বিভিন্ন ধর্মে প্রচলিত রয়েছে এবং কুরআনি আইনে যেহেতু এটি অনুমোদিত, তাই এটিকে আইনত স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।”

সানা মালিকের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে কিছু মুসলিম সংগঠন ও ব্যক্তি তাঁর মতামতকে সমর্থন জানিয়েছেন, অন্যদিকে বিজেপি, শিবসেনা, হিন্দু সংগঠনসহ বহু রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের একাংশ এটিকে ‘ভারতীয় সংবিধান ও সমতার নীতির পরিপন্থী’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

   

আরও দেখুনঃ দিল্লির রাস্তায় গাড়ির লক ভেঙে মোবাইল চুরি! পুলিশের জালে সাহিল-রশিদ

বিধায়ক সানা মালিক তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন যে, বহুবিবাহ শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মেই সীমাবদ্ধ নয়, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মেও এর প্রচলন রয়েছে। তাই কুরআনি আইন অনুসারে এটিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তাঁর এই অবস্থানকে অনেকে ব্যক্তিগত আইনের (পার্সোনাল ল) পক্ষে সওয়াল হিসেবে দেখছেন, যা ভারতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয়।বিজেপি নেতারা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এই মন্তব্য দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমতার আদর্শের বিরুদ্ধে।

বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “ভারতে এক দেশ, এক আইনের নীতি চালু করার সময় এসেছে। কোনও ধর্মীয় আইনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠী) ও অন্যান্য সহযোগী দলগুলোও এই মন্তব্যের নিন্দা করে বলেছে যে, এ ধরনের বক্তব্য সাম্প্রদায়িক বিভেদ বাড়াতে পারে।অন্যদিকে, কিছু মুসলিম ব্যক্তি ও সংগঠন সানা মালিকের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন।

তাঁরা বলছেন, সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে। তাই ব্যক্তিগত বিষয়ে ধর্মীয় আইন অনুসরণের অধিকার থাকা উচিত। তবে উদারপন্থী মুসলিম নারী সংগঠনগুলো এই মতামতের বিরোধিতা করেছে। তাঁরা মনে করেন, বহুবিবাহ নারীর সম্মান ও অধিকারের পক্ষে ক্ষতিকর।ভারতে বহুবিবাহ নিয়ে আইনি অবস্থান জটিল।

হিন্দু বিবাহ আইন ১৯৫৫ সালে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে, কিন্তু মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে এখনও এটি অনুমোদিত। সুপ্রিম কোর্ট একাধিকবার এই বিষয়ে মন্তব্য করেছে এবং ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) চালু করার পরামর্শ দিয়েছে। উত্তরাখণ্ডসহ কয়েকটি রাজ্যে ইউসিসি চালু হয়েছে, যা জাতীয় স্তরে বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।