বাংলাদেশে হিন্দু বিরোধিতার আবহেই প্রকাশ্যে আল-কায়দা-ISIS পতাকা নিয়ে মিছিল

ঢাকা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা প্রত্যেকদিনের রুটিন।(Extremist) এই আবহেই ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান নতুন করে চরম আতঙ্ক তৈরী করেছে দেশে। সূত্রের খবর অনুযায়ী গত কয়েকদিন…

bangladesh-extremist-flags-rally

ঢাকা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা প্রত্যেকদিনের রুটিন।(Extremist) এই আবহেই ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান নতুন করে চরম আতঙ্ক তৈরী করেছে দেশে। সূত্রের খবর অনুযায়ী গত কয়েকদিন ধরে দেশের রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় উগ্র ইসলামপন্থীরা প্রকাশ্যে আল-কায়দা, আইএসআইএস এবং হামাসের পতাকা উড়িয়ে মিছিল করছেন।

কালো পতাকায় সাদা অক্ষরে লেখা ভয়ংকর প্রতীকগুলো দেখে সাধারণ সংখ্যালঘু মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, “এ যেন একটা নতুন অন্ধকার যুগের সূচনা।”প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঢাকার রাস্তায় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই পতাকা হাতে নিয়ে খিলাফতের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। কেউ কেউ ওসামা বিন লাদেনের ছবিও প্রদর্শন করছেন। এই মিছিলগুলো শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নয়, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় একই দৃশ্য দেখা গেছে।

   

আরও দেখুনঃ বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনে হামলার হুমকি ISI র তৈরী আজাদী পার্টির

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রকাশ্য তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠনগুলো খোলাখুলিভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর আগেও হিন্দু মন্দিরে হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। এখন আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রতীক প্রকাশ্যে উড়িয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

অনেক হিন্দু, বৌদ্ধ ও অন্যান্য সংখ্যালঘু পরিবার দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে আটকে যাচ্ছেন।বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা বলছেন, এই ঘটনাগুলো শুধু প্রতীকী নয়, এর পেছনে সংগঠিত পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে থামানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল বলে অনেকে মনে করেন।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নীরবতা। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো যেখানে ছোটখাটো ঘটনা নিয়েও সরব হয়, সেখানে বাংলাদেশের এই চরম ঘটনাগুলো নিয়ে তাদের তেমন কোনো প্রতিবেদন চোখে পড়ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিগুলো দেখে অনেক ভারতীয় নাগরিকসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

কিন্তু বড় বড় আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এখনও এই বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কভারেজ দেয়নি।বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উগ্রবাদের উত্থান শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তায় পড়তে পারে। ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় ইতিমধ্যে সতর্কতা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খিলাফতের দাবি এবং আইএসআইএস-আল কায়দার প্রতীক ব্যবহার ভবিষ্যতে বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিতে পারে।