নয়াদিল্লি: ব্রিক্স দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (Ajit Doval)গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি (MoU)-কে স্বাগত জানিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দোভাল বলেছেন, বিশ্বকে নতুন নিরাপত্তা হুমকি ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তি পশ্চিম এশিয়ার শক্তি নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
ব্রিক্স এনএসএ মিটিংয়ে দোভালের এই বক্তব্যকে কূটনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের নতুন নিরাপত্তা হুমকি ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।” ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই অঞ্চল থেকেই দেশের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়।
আরও দেখুনঃ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার হস্টেলে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে মন্ত্রীর ভাইপো গ্রেফতার
এই পথ সুরক্ষিত না থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।দোভাল আরও বলেন, ভারত আশা করে যে ইউএস-ইরানের মধ্যে এই শান্তি চুক্তি বাস্তবে কাজ করবে এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলির উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। এই চুক্তির ফলে সেই উত্তেজনা কমলে ভারতসহ অনেক দেশই উপকৃত হবে।
ভারতের অবস্থান স্পষ্ট কোনো পক্ষে না গিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য ব্রিক্স দেশগুলির প্রতিনিধিরাও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রাশিয়া ও চিনের মতো দেশগুলি ইতিমধ্যে এই চুক্তিকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছে। ভারত এই বৈঠকে তার ভূমিকা আরও সক্রিয় করে তুলেছে।
দোভালের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ভারত শুধু নিজের স্বার্থ দেখছে না, বরং বিশ্বব্যাপী শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও কাজ করছে।ভারতীয় কূটনীতিকরা মনে করেন, এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ হলে ভারতের জ্বালানি আমদানি আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। বর্তমানে ভারত তার মোট তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে।
পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। তাই দোভালের এই স্বাগত জানানোকে কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার নয়, বরং বাস্তবসম্মত প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।একজন প্রাক্তন কূটনীতিক বলেন, “অজিত দোবালের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তি যখন এমন বক্তব্য রাখেন, তখন তা শুধু একটি দেশের নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে। ভারত সবসময় সংলাপ ও শান্তির পথে বিশ্বাসী।”


