শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়! ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিস্ফোরক শুভেন্দু

কলকাতা: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (Syama Prasad)কলকাতায় তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু নিয়ে ফের বিতর্ক উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি…

syama-prasad-mookerjee-death-conspiracy-claim

কলকাতা: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (Syama Prasad)কলকাতায় তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু নিয়ে ফের বিতর্ক উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু কোনও স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি “ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ড”। কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করার আন্দোলনের কারণেই তাঁকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২৩ জুন বিজেপি ও জনসংঘের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী-সমর্থকদের কাছে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ড. মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেই অনুষ্ঠানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দেশের অখণ্ডতার জন্য লড়াই করতে গিয়ে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রাণ দিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”

   

আরও দেখুনঃ উত্তাল নদী, ভাঙা ব্রিজ! ডুয়ার্সে কাঁধে পড়ুয়াদের নিয়ে নদী পেরোচ্ছেন শিক্ষকরা

তবে ইতিহাসের পাতায় এই মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্ক বহু পুরনো। ১৯৫৩ সালের মে মাসে তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীরে চালু থাকা পারমিট প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি পারমিট ছাড়াই কাশ্মীরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে শ্রীনগরের একটি বন্দিশিবিরে তাঁকে আটক রাখা হয়।

বন্দিদশায় থাকার সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ২৩ জুন ১৯৫৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। সরকারি ও তৎকালীন মেডিকেল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়।

কিন্তু মৃত্যুর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ড. মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যরা এবং তৎকালীন ভারতীয় জনসংঘের নেতারা অভিযোগ করেন, তাঁর চিকিৎসায় অবহেলা করা হয়েছিল। কেউ কেউ আরও একধাপ এগিয়ে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন। তাঁদের দাবি ছিল, যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা পেলে হয়তো তাঁর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।

যদিও দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও চূড়ান্ত সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি। এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি তদন্ত, বিচারবিভাগীয় কমিশন বা আইনগত প্রক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বা ‘ষড়যন্ত্রমূলক মৃত্যু’ বলে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। ফলে বিষয়টি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবেই রয়ে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু এবং তাঁর আদর্শ আজও ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বিজেপি ও তার আদর্শিক শিকড় জনসংঘের কাছে তিনি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রতীক। তাই তাঁর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক এবং রহস্যের প্রশ্নও সময় সময় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।