কলকাতা: “সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে আমরা নিজেরাই মানুষে মানুষে বিভাজন তৈরি করছি।” মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ঠিক এই ভাষাতেই সুর চড়ালেন বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ। এদিন রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে গিয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু দফতরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিলেন তিনি। একই সঙ্গে বরানগর ও রাজ্যের একাধিক নাগরিক সমস্যা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন সজল।
সংখ্যালঘু দফতর নিয়ে প্রশ্ন
সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ হওয়ার পর, মঙ্গলবার সজল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে। তিনি বলেন, “কাল এখান থেকে বেরনোর পর অনেকে আমাকে প্রশ্ন করছিলেন, সংখ্যালঘুদের জন্য কী করা হল? আমি সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, রাষ্ট্র যদি নিরপেক্ষ হয়, তবে সেখানে সংখ্যালঘু দফতরের আদৌ কোনও প্রয়োজন আছে কি? এই সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু করে আমরা নিজেরাই সমাজকে ভাগ করছি।”
এলাকার একগুচ্ছ সমস্যার খতিয়ান
নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বরানগরের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে হাসপাতাল, কোনও ক্ষেত্রেই কোনও উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন বিধায়ক। কামারহাটির সাগর দত্ত হাসপাতালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সুপার স্পেশালিটি তকমা দেওয়া হলেও, সাগর দত্ত হাসপাতালে এখনও অর্ধেক বিভাগই নেই।” এলাকার রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি সরকারি স্কুলগুলির হাল ফেরানোর দাবিও জানান তিনি।
“পশ্চিম বাংলাদেশ” কটাক্ষ ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবি
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সজল ঘোষ বলেন, “গত ১৫ বছরে এই রাজ্যকে কার্যত পশ্চিম বাংলাদেশ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানকার সন্ত্রাসবাদীরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।” এই পরিস্থিতির বদল ঘটাতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আরও বেশি সুরক্ষিত করার জন্য জোরালো আবেদন জানান বরানগরের বিধায়ক।



