কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে বড় ধরনের চাঞ্চল্য। (ritabrata)ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরী হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতারা কলকাতার নভোটেলে মেগা বৈঠক করছেন। সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে এই বৈঠকে দলের মধ্যে নতুন সংগঠন গঠনের ঘোষণা করেছেন তারা। এই নতুন কমিটিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়কে রাখা হয়নি। নতুন প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে অরূপ রায়কে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিম। একইসঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।নভোটেলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা ও বিধায়ক।
আরও দেখুনঃ PM SHRI: কেরলে পিএম শ্রী প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ! জলকামান চালাল পুলিশ
বৈঠক শেষে অরূপ রায় বলেন, “দলের মধ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছি। এই মুহূর্তে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু ঋতব্রতর সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূলকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা অভিষেক এবং মমতাকে বাদ দিয়েও বলতে পারে এই নব্য তৃণমূল।
অরূপ আরও জানান, নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে এবং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংগঠন চালানো হবে।বৈঠকে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন যে, গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে একটি বিশেষ পরিবারের একচেটিয়া আধিপত্য চলছে।
সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, টিকিট বিতরণ থেকে শুরু করে দলীয় পদে নিয়োগ সবকিছুতেই অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের প্রভাব বেশি বলে তাঁরা মনে করেন। এই অসন্তোষ থেকেই বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছে।ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসের মতো প্রবীণ নেতাদের এই বিদ্রোহে যোগ দেওয়া রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অনেকে মনে করছেন, এই বিদ্রোহ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাপা অসন্তোষ ছিল, যা এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে।বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘রিয়েল তৃণমূল’ বা ‘রিতো-তৃণমূল’ নামে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে। আর এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের কারণেই তাঁরা অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে দল থেকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন।



