আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance)সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্ন সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রশংসা করে বলেছেন, “আমরা পাকিস্তানকে ভালোবাসি! থ্যাঙ্ক ইউ!” এই মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে কূটনৈতিক প্রয়োজনীয়তা বললেও, বিশেষ করে ভারত, ইসরায়েল-সমর্থক গোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসবাদের শিকার দেশগুলোর মানুষের কাছে এটি গভীর ক্ষোভ ও অপমানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১১ সালে অ্যাবটাবাদে ওসামা বিন লাদেনকে মার্কিন বাহিনী হত্যা করে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলা ৯/১১ র মাস্টারমাইন্ডকে পাকিস্তানের সেনানিবাসের কাছে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনা পাকিস্তানের দ্বিমুখী নীতির স্পষ্ট প্রমাণ বলে অনেকে মনে করেন। পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র ইসলামিক দেশ যাদের কাছে নিউক্লিয়ার অস্ত্র রয়েছে। এই অস্ত্রকে তারা ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও দেখুনঃ কেন গোপন ইরান চুক্তি? ‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাই নেই’, চরম কটাক্ষ ভ্যান্সের
ভারত দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ভারতীয় ভূখণ্ডে বড় বড় হামলা চালায়। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে আমেরিকান ও ইহুদি নাগরিকও ছিলেন। লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদের মতো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার ও আইএসআই-কে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ বারবার উঠেছে।
আমেরিকা সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ লালন-পালনের জন্য বারবার সতর্ক করেছে।ব্রিটেনে গ্রুমিং গ্যাং কেলেঙ্কারিতে পাকিস্তানি মুসলিম বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি উচ্চপ্রোফাইল মামলায় শত শত যুবতী মেয়েকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক কিছু স্বাধীন তদন্তে এই ধরনের অপরাধে এথনিক পাকিস্তানি পুরুষদের অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি জড়িত থাকার চিত্র উঠে এসেছে।
পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর (পিওজেকে) এবং বেলুচিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও গুরুতর। হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর জোরপূর্বক ধর্মান্তর, সম্পত্তি দখল, হত্যা ও গুমের ঘটনা নিয়মিতভাবে রিপোর্ট হয়। বেলুচ জাতীয়তাবাদীদের আন্দোলন দমন করতে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব ঘটনার তদন্ত দাবি করে আসছে।ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের মন্তব্যের পর ভারতীয় নেটিজেন ও বিশ্লেষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, এই ধরনের প্রশংসা ৯/১১-এর শহীদ, মুম্বই হামলার শিকার এবং পাকিস্তানে নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের প্রতি অবজ্ঞা। কূটনীতির নামে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশকে আলিঙ্গন করা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি বলে অনেকে মনে করেন।


