ঢাকা: সম্প্রতি বাংলাদেশের গাইবান্ধায় দেশের সবচেয়ে (Bangladesh)বড় রামের মূর্তি নির্মাণ নিয়ে তৈরী হয়েছে চাপানউতোর। ইসলামপন্থীরা সবরকম ভাবে এই নির্মাণের বিরোধিতা শুরু করেছে। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ইসলামপন্থীদের সুরে সুর মিলিয়ে এই রামের মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত করে দিয়েছেন। এই আবহেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা রাস্তায় নেমেছে।
স্থানীয় হিন্দু নেতা ও মন্দির কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর চাপ ও হুমকিতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এরপরই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। টর্চলাইট মিছিল করে তাঁরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে সরকারের কাছে নিরাপত্তা ও নির্মাণকাজ পুনরায় শুরুর দাবি জানিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ বঙ্গে দাম আকাশ ছোঁয়া! মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে চোরাচালান হচ্ছে বস্তা বস্তা রসুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে: “রক্ত দিয়ে হলেও রামের মূর্তি গড়ব। জিহাদিদের চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করছি। প্রয়োজনে রক্ত দেব, কিন্তু বাংলাদেশে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা করবই।” বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়িতে দেশের সবচেয়ে বড় ৮১ ফুট উঁচু রাম মূর্তি নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে তীব্র চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।
রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমপ্লেক্সে নির্মাণাধীন এই মূর্তির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছিল। কিন্তু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর তীব্র বিরোধিতা ও হুমকির মুখে কর্তৃপক্ষ কাজ স্থগিত করে দিতে বাধ্য হয়েছে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, বারবার নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও হয়নি। এই ঘটনাগুলো তাঁদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাস তৈরি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এই মূর্তি নির্মাণ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে হতাশা আরও বেড়েছে। অনেকে মনে করছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার নামে সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।অন্যদিকে, ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো বলছে, এই ধরনের বড় মূর্তি নির্মাণ স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। তাঁরা চান এই প্রকল্প বাতিল করা হোক। এতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।



