ডেবরা থানায় ফের নতুন এফআইআর, বাড়ল সুমিত রায়ের আইনি জট

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে (Sumit Roy) ঘিরে আইনি জটিলতা ক্রমশ বাড়ছে। এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ…

Sumit Roy Faces New Legal Setback as Another FIR Is Registered in Debra

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে (Sumit Roy) ঘিরে আইনি জটিলতা ক্রমশ বাড়ছে। এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় আরও এক প্রভাবশালী নাম উঠে এসেছে। অভিযোগে নাম রয়েছে মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরারও। উল্লেখযোগ্যভাবে, সুজয় হাজরাকে ইতিমধ্যেই অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে শালবনি থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ডেবরা থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে আর্থিক লেনদেন এবং প্রতারণার একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও প্রভাব খাটানোর আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ, তবুও বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

   

তদন্তকারীরা অভিযোগের নথি খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

সুমিত রায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে পরিচিত মুখ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজে যুক্ত ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ দায়ের হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।

অন্যদিকে, প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার নামও এই মামলায় উঠে আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে। সুজয় হাজরা বর্তমানে অন্য একটি মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। এর মধ্যেই নতুন অভিযোগে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ায় তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ডেবরা থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযোগকারীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, অভিযোগে উল্লিখিত আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি কী ছিল এবং সেই লেনদেনের সঙ্গে কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন।