মঙ্গলে আবারও এক বিস্ময়কর ও রোমহর্ষক দৃশ্য ধরা পড়েছে (Storm on Mars)। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা ‘লাল গ্রহ’-র এমন কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন যা বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছে। এক জনশূন্য ও প্রাচীন উপত্যকায় হঠাৎ করেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডজন ডজন তীব্র ঘূর্ণিবায়ু। শত শত ফুট উঁচু এই ধূলো-ঘূর্ণিঝড়গুলো এমন প্রচণ্ড বেগে ঘুরছে যে তা বিজ্ঞানীদেরও হতবাক করে দিয়েছে। ‘মার্স এক্সপ্রেস’ মহাকাশযানের ক্যামেরায় ধরা পড়া এই নাটকীয় দৃশ্যের পেছনের আসল ঘটনাটি আসুন জেনে নেওয়া যাক…
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘মার্স এক্সপ্রেস’ মহাকাশযানটি মঙ্গলের এই চমকপ্রদ ছবিগুলো প্রকাশ করেছে। ছবিগুলোতে গ্রহটির বিশাল এক গিরিখাতের ওপর দিয়ে ধুলোর ঘূর্ণায়মান স্তম্ভ বা ‘ডাস্ট ডেভিল’ (dust devils)-এর আনাগোনা দেখা যাচ্ছে; এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, ‘লাল গ্রহ’-এর বাতাস প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ও শক্তিশালী।
‘ডাস্ট ডেভিল’ (dust devils) কী?
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মতে, সূর্যের আলো যখন মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠতলকে উত্তপ্ত করে তোলে, তখন তার ঠিক ওপরের বাতাস দ্রুত উপরে উঠতে শুরু করে। এই উষ্ণ বাতাস প্রচুর পরিমাণে ধূলিকণা উপরে তুলে নিয়ে একটি ঘূর্ণায়মান ঘূর্ণিবায়ু বা ঘূর্ণি তৈরি করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ঘূর্ণিগুলো পৃথিবীর মরুভূমিতে দেখা ‘ডাস্ট ডেভিল’ বা ধূলি-ঘূর্ণির মতো হলেও আকারে অনেক বিশাল। মঙ্গল গ্রহের এই ঘূর্ণিগুলো ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে এবং কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে; এগুলোর গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৪৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
রোভারের রেকর্ডও ভেঙেছে
‘মার্স এক্সপ্রেস’-এ থাকা হাই-রেজোলিউশন স্টেরিও ক্যামেরাটি এই এলাকায় প্রায় ৩০টি সক্রিয় ঘূর্ণিবায়ুর (whirlwind) ছবি ধারণ করেছে। ছবিগুলোতে এদের ছোট হলুদ বিন্দুর মতো দেখাচ্ছে, যার পেছনে রয়েছে গোলাপি আভা-যুক্ত ছায়া। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ঘূর্ণিবায়ুগুলোর ভেতরে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়—যা মঙ্গলপৃষ্ঠে এযাবৎ কোনো রোভারের রেকর্ড করা সর্বোচ্চ গতিবেগের চেয়েও অনেক বেশি।



