ভারত থেকে দুবাই গিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিচ্ছে যুবকরা! আরএসএস অফিসে হামলার রহস্য ফাঁস

রাঁচি: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (rss office) স্থানীয় অফিসে পেট্রোল বোমা ছোড়ার ঘটনায় গ্রেফতার তিন অভিযুক্তের পেছনে উঠে এসেছে এক ভয়ংকর আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগসাজশের ছবি। পুলিশ…

rss-office-attack-ranchi-tth-terror-link-investigation

রাঁচি: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (rss office) স্থানীয় অফিসে পেট্রোল বোমা ছোড়ার ঘটনায় গ্রেফতার তিন অভিযুক্তের পেছনে উঠে এসেছে এক ভয়ংকর আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগসাজশের ছবি। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার সূত্র বলছে, ধৃত তিনজনই পাকিস্তানের আইএসআই-সমর্থিত ‘তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান’ (টিটিএইচ) নামক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

তাদের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল দুবাইভিত্তিক বটিম অ্যাপ ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। হামলার পুরো ঘটনা মোবাইলে ভিডিও করে হ্যান্ডলারের কাছে পাঠিয়েছিলেন তারা যেন ‘সফল অপারেশন’-এর প্রমাণ।ঘটনাটি ঘটে ১৬ জুন রাতে। রাঁচির নিবারণপুর এলাকায় চুটিয়া থানার আওতাধীন আরএসএস অফিসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে হামলা চালানো হয়। সৌভাগ্যবশত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, কিন্তু এই ঘটনা দেশজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ

পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং তিনজনকে গ্রেফতার করে সাইফ আনসারি, আমান আনসারি ও সায়ম সুজন। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।সাইফ আনসারি ও আমান আনসারি দুবাই গিয়েছিলেন। সেখানে তাদের সঙ্গে পরিচয় হয় শাহবাজ রানা ওরফে ভাট্টি নামে এক পাকিস্তানি নাগরিকের। সূত্র বলছে, এই যোগাযোগের পর তারা র‍্যাডিক্যালাইজড হয়ে পড়েন এবং টিটিএইচ-এর অ্যান্টি-ইন্ডিয়া কার্যকলাপে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে রাজি হন।

দুবাইয়ের এই যোগাযোগই তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দেশে ফিরে তারা হ্যান্ডলারদের নির্দেশ মেনে হামলার পরিকল্পনা করেন। হামলার সময় তারা ভিডিও ধারণ করে তাৎক্ষণিকভাবে হ্যান্ডলারের কাছে পাঠিয়ে দেন। এটি তাদের ‘প্রমাণ’ হিসেবে কাজ করেছে।তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তিন অভিযুক্তই টিটিএইচ-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এই সংগঠনকে পাকিস্তানের আইএসআই অর্থায়ন করে বলে সূত্রের দাবি। তারা এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

বটিম অ্যাপটি দুবাইয়ে কার্যকর এবং এর মাধ্যমে তারা নিরাপদ যোগাযোগ বজায় রাখতেন বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের সময় একজন অভিযুক্ত পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে আহত হয়েছেন।এই ঘটনা শুধু একটি স্থানীয় হামলা নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি শক্তির মদতে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ার এক উদাহরণ। ঝাড়খণ্ড পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোও তদন্তে যুক্ত হয়েছে।

আরও বড় চক্র উন্মোচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাঁচির এসএসপি রাকেশ রঞ্জন জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে। ধর্মীয় উগ্রবাদ, বিদেশি মদদ ও সোশ্যাল মিডিয়া-অ্যাপের মাধ্যমে র‍্যাডিক্যালাইজেশন এসব নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সীমান্তের ওপার থেকে এই অনুপ্রবেশ রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ কেন নেওয়া হচ্ছে না?এই হামলার নিন্দা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। আরএসএস-সহ বিভিন্ন সংগঠন দাবি করেছে, দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং এনক্রিপ্টেড অ্যাপের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।