কলকাতার রাস্তাজুড়ে যেন এক অদ্ভুত চরকিপাক। কখনও বিধাননগর, কখনও আলিপুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ালেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ (Aroop Biswas) । তবে এই যাত্রা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি বা প্রশাসনিক বৈঠকের জন্য নয়, বরং সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা এবং প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া এড়াতেই দিনের অধিকাংশ সময় কাটালেন তিনি। আর সেই কারণেই বৃহস্পতিবার কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেল তাঁর গাড়ির ঘুরপাক।
সূত্রের খবর,(Aroop Biswas) নির্ধারিত সময়ে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিতে পৌঁছন অরূপ। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্যই থানায় তাঁর এই উপস্থিতি। কিন্তু থানার বাইরে তখন অপেক্ষা করছিলেন একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। অরূপ থানায় ঢোকার সময় থেকে বেরোনোর মুহূর্ত পর্যন্ত ক্যামেরা ছিল তাঁর দিকে তাক করা। স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
তবে সেই পরিস্থিতি এড়াতেই দেখা যায় এক ভিন্ন কৌশল। থানা থেকে বেরিয়ে সরাসরি নিজের গন্তব্যে না গিয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ি ঘোরাতে থাকেন তিনি। কখনও দ্রুত গতিতে গাড়ি এগিয়ে যায়, আবার কখনও পথ পরিবর্তন করা হয়। সংবাদমাধ্যমের গাড়িগুলিও তাঁর পিছু নেয়। ফলে কার্যত কলকাতার রাস্তায় শুরু হয় এক ধরনের ‘ক্যাট অ্যান্ড মাউস’ খেলা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের এড়াতে একাধিকবার রুট পরিবর্তন করেন অরূপের গাড়িচালক। কোথাও গাড়ি থামানো হয়নি। বরং লক্ষ্য ছিল সংবাদমাধ্যমের নজর এড়িয়ে নিরাপদ কোনও জায়গায় পৌঁছে যাওয়া। কিন্তু সাংবাদিকদের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হয়নি।
শেষ পর্যন্ত মিডিয়ার নজর এড়াতে আলিপুর আদালত চত্বরে ঢুকে পড়েন অরূপ(Aroop Biswas) । আদালত চত্বরে প্রবেশ করার পর কিছুটা সময় সেখানে অবস্থান করেন তিনি। আদালত চত্বর সাধারণত নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকে এবং সেখানে সংবাদমাধ্যমের চলাচলেও কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। সেই সুযোগই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
তবে আদালত চত্বরে ঢোকার পরেও সাংবাদিকদের প্রশ্ন থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাননি তিনি। বিভিন্ন মামলার প্রেক্ষাপট, সাম্প্রতিক বিতর্ক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ছুড়ে দেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। কিন্তু কোনও প্রশ্নেরই সরাসরি উত্তর দিতে দেখা যায়নি প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে।
কখনও নীরবে হেঁটে গিয়েছেন, কখনও মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন, আবার কখনও দ্রুত গাড়িতে উঠে পড়েছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে কার্যত কুলুপ এঁটেই থাকলেন তিনি। তাঁর এই নীরবতা ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়াতেই তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে আসতে চাইছেন না। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এবং এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করতে চান না বলেই তিনি নীরবতা বজায় রেখেছেন



