বিট্টু দত্ত, কলকাতা: নতুন মরশুমের আগে দলকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে মোহনবাগান (Mohun Bagan ) সুপার জায়ান্ট। সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে এবার সবুজ-মেরুন শিবিরে যোগ দিলেন ভারতের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার Rahul Bheke। এক বছরের চুক্তিতে জাতীয় দলের এই নির্ভরযোগ্য ফুটবলারকে দলে নিয়েছে মোহনবাগান। তাঁর আগমনে দলের রক্ষণভাগ যে আরও অভিজ্ঞ ও ভারসাম্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে আশাবাদী ক্লাব কর্তারা।
ভারতীয় ফুটবলে রাহুল ভেকে পরিচিত নাম। দীর্ঘদিন ধরে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে খেলছেন তিনি। সেন্টার-ব্যাক হিসেবে তাঁর দক্ষতা সুপরিচিত হলেও প্রয়োজন হলে রাইট-ব্যাক হিসেবেও সমান স্বচ্ছন্দ। জাতীয় দলের জার্সিতে অর্ধশতাধিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। শুধু তাই নয়, দেশের হয়ে অধিনায়কের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
আইএসএলে কেরল, বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ের মতো শক্তিশালী দলের হয়ে খেলার সুবাদে ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে নিজেকে বহুবার প্রমাণ করেছেন রাহুল। ডিফেন্ডার হয়েও সেট-পিস পরিস্থিতিতে গোল করার ক্ষমতা তাঁর অন্যতম বড় শক্তি। কর্নার বা ফ্রি-কিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হয়ে গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারে।
মোহনবাগানে যোগ দেওয়ার পর নিজের উচ্ছ্বাস লুকোননি রাহুল। তিনি জানিয়েছেন, দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের জার্সি গায়ে খেলার সুযোগ পাওয়া যে কোনও ভারতীয় ফুটবলারের কাছেই গর্বের বিষয়। জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন সতীর্থ ইতিমধ্যেই মোহনবাগানে খেলছেন, ফলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে বিশেষ সমস্যা হবে না বলেই তাঁর বিশ্বাস। অভিজ্ঞতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দলের সাফল্যে অবদান রাখাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
রাহুল আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে প্রতিপক্ষ দলের হয়ে খেলতে গিয়ে তিনি খুব কাছ থেকে মোহনবাগানের শক্তি ও সমর্থকদের আবেগ দেখেছেন। তাঁর মতে, দেশের সেরা ক্লাবগুলির মধ্যে অন্যতম মোহনবাগান প্রতি মরশুমেই ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে। সেই মানসিকতার সঙ্গেই তিনি নিজেকে একাত্ম করতে চান। নতুন ক্লাবের হয়ে আইএসএল জয়ের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিযোগিতাতেও সাফল্য অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
কলকাতার ফুটবল পরিবেশও তাঁর কাছে অপরিচিত নয়। অতীতে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ডার্বির উত্তেজনা, গ্যালারির আবেগ এবং দুই প্রধানের লড়াইয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। একসময় যে ডার্বিতে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে গোল করে জয় পেয়েছিলেন, এবার সেই ইতিহাস উল্টে দিয়ে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের আনন্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি।
সব মিলিয়ে, রাহুল ভেকের আগমন শুধু রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করাই নয়, দলের ড্রেসিংরুমে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের নতুন মাত্রাও যোগ করবে। নতুন মরশুমে তাঁর উপস্থিতি মোহনবাগানের ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছে ফুটবল মহল।



