কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! প্যাঁচপেঁচে গরম আর হাঁসফাঁস অস্বস্তি থেকে অবশেষে রেহাই পেতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গবাসী। উইকএন্ডেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জেরে জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা, রয়েছে পাহাড়ে ধস নামার প্রবল আশঙ্কাও। (South Bengal rain and thunderstorm forecast)
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস ও সতর্কতা
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করার ফলেই আবহাওয়ার এই ভোলবদল। আগামী ২০ জুনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনায় আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি দফায় দফায় বৃষ্টির দেখা মিলবে। তবে, বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বাতাসে অত্যাধিক জলীয় বাষ্পের কারণে এখনই ভ্যাপসা গরম পুরোপুরি কাটছে না। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করবে।
একনজরে দক্ষিণবঙ্গের জেলাভিত্তিক সতর্কতা
বৃহস্পতিবার পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় কমলা সতর্কতা জারি থাকছে। উত্তর ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, হুগলি ও বাঁকুড়ায় রয়েছে হলুদ সতর্কতা। তবে পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে অস্বস্তিকর গরম বজায় থাকবে। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে ঝড়বৃষ্টির কমলা সতর্কতা থাকবে। নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং দুই বর্ধমানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শনিবার কমলা সতর্কতা জারি থাকছে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলায়।
রবিবার হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরে রুদ্ররূপ প্রকৃতির, ধসের আশঙ্কা
দক্ষিণে স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এবং ডুয়ার্স এলাকার পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক। আগামী ১৮ থেকে ২০ জুনের মধ্যে আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শনিবার এই দুই জেলায় জারি থাকবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘লাল সতর্কতা’ (Red Alert)। এর জেরে নিচু এলাকাগুলি জলমগ্ন হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর আচমকা বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়াও দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টি এবং সমগ্র উত্তরবঙ্গ জুড়ে ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। একটানা প্রবল বৃষ্টির কারণে দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ে ধস নামার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে হাওয়া অফিস। দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটক ও স্থানীয়দের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



