বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়, মাঠের বাইরের অসংখ্য গল্পও। প্রতি চার বছর অন্তর এই মহাযজ্ঞে জন্ম নেয় এমন সব কাহিনি, যা অনেক সময় ম্যাচের ফলাফলের থেকেও বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। কোনও দল তাদের খাবারের জন্য শিরোনামে আসে, কেউ বা কঠোর শৃঙ্খলার জন্য। আবার কোনও কোনও দল নিজেদের প্রস্তুতির অভিনব পদ্ধতি দিয়ে নজর কাড়ে। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তেমনই এক নতুন গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পর্তুগাল।
অতীতে বিশ্বকাপে নানা অদ্ভুত প্রস্তুতির নজির রয়েছে। কোনও দল বিলাসবহুল হোটেল ছেড়ে সাধারণ আবাসন বেছে নিয়েছে শুধুমাত্র নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য। আবার কোনও দল নিজেদের প্রিয় খাবার ছাড়া থাকতে না পেরে দেশের রাঁধুনি পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে এসেছে। ইতিহাসের পাতায় এমন ঘটনাও আছে, যখন এক কোচ গোটা দলকে সামরিক শৃঙ্খলার মধ্যে বেঁধে রেখেছিলেন, যেখানে ফুটবলারদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কার্যত ছিল না বললেই চলে।
কিন্তু পর্তুগালের গল্পটা একেবারেই অন্যরকম। এখানে নেই কড়াকড়ি, নেই কঠোর নিয়মের বেড়াজাল। বরং রয়েছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতির এক অভিনব পরিকল্পনা। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে পর্তুগিজ ফুটবলারদের বেশ কয়েকদিন ফ্লোরিডার সমুদ্রসৈকতে সময় কাটাতে দেখা গিয়েছে। প্রথম নজরে বিষয়টি নিছক অবকাশযাপন বলে মনে হলেও, এর পিছনে রয়েছে সুস্পষ্ট ক্রীড়াবিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা।
পর্তুগালের কোচিং স্টাফের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা ইউরোপের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে খেলোয়াড়দের শরীরকে সেই আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। সমুদ্রসৈকতের পরিবেশে অনুশীলন ও সময় কাটানো সেই অভিযোজন প্রক্রিয়াকে সহজ করে। পাশাপাশি খোলা পরিবেশ খেলোয়াড়দের মানসিক চাপও কমায়।
পর্তুগালের মিডফিল্ডার ম্যাথেউস নুনেজ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, তিনি সারা বছর ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে খেলেন, যেখানে আবহাওয়া অনেকটাই শীতল ও আরামদায়ক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের গরম এবং আর্দ্রতা সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তাই শরীর ও মন— দু’দিক থেকেই নতুন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়া জরুরি।
এই কারণেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে পর্তুগাল দল নিজেদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সমুদ্রসৈকতকে বেছে নিয়েছে। সেখানে ফুটবলাররা শুধু বিশ্রামই নেননি, বরং আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও চালিয়ে গিয়েছেন। আধুনিক ফুটবলে ফিটনেস, রিকভারি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব যে কতটা বেড়েছে, এই পরিকল্পনা তারই প্রমাণ।
বুধবার হিউস্টনে কঙ্গোর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে পর্তুগাল। মাঠে তাদের পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত— বিশ্বকাপের ইতিহাসে পর্তুগালের এই ‘বিচ থেরাপি’ ইতিমধ্যেই একটি আলাদা অধ্যায় হয়ে উঠেছে। যদি রোনাল্ডোদের দল শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে পারে, তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে এই সমুদ্রসৈকতের প্রস্তুতিকেই সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব। তখন এই গল্প শুধু একটি প্রস্তুতি শিবিরের কাহিনি থাকবে না, বরং বিশ্বকাপ লোককথার অংশ হয়ে যাবে।



