বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা অব্যাহত! শরীরে একাধিক আঘাত-গলা টিপে খুন নবাবগঞ্জের হিন্দু গৃহবধূ রুপালি

নবাবগঞ্জ : ফের হিন্দু মহিলার রহস্য মৃত্যুতে উত্তাল ওপর বাংলা। (Rupali Sarkar)হিন্দু নিধন যেন কমবার নাম নেই। ফের এক হিন্দু গৃহবধূর মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে নবাবগঞ্জ…

rupali-sarkar-death-case-nawabganj-murder-allegation-investigation

নবাবগঞ্জ : ফের হিন্দু মহিলার রহস্য মৃত্যুতে উত্তাল ওপর বাংলা। (Rupali Sarkar)হিন্দু নিধন যেন কমবার নাম নেই। ফের এক হিন্দু গৃহবধূর মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে নবাবগঞ্জ এলাকায়। ৩৬ বছর বয়সী হিন্দু নারী রূপালী সরকারের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে একটি বাগান থেকে। তাঁর স্বামী অরুণ সরকারের অভিযোগ, তাঁকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

   

এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে ‘আরেকটি সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।স্থানীয় সূত্র জানায়, রূপালী সরকার গত কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে পাননি। অবশেষে শুক্রবার সকালে নবাবগঞ্জের একটি বাগানে তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

আরও দেখুনঃ ‘পশ্চিমবঙ্গ আমার, অসম আমার, মণিপুর আমার!’ ফের উস্কানি জামাত পন্থী পাটোয়ারীর

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। গলায় ফাঁসের দাগ, শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন এবং অন্যান্য অত্যাচারের প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।রূপালীর স্বামী অরুণ সরকার শোকে মুহ্যমান। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী কারও সঙ্গে কোনো ঝগড়া বা শত্রুতা করেনি। সে শুধু সংসার সামলাত।

কারা এমন নৃশংসভাবে তাকে খুন করল? আমরা ন্যায়বিচার চাই।” পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর চাপ বাড়ছে। অনেক হিন্দু পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁরা বলছেন, “এটা কোনো সাধারণ খুন নয়। ধর্মীয় কারণে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দু নারীদের উপর এমন হামলা বেড়ে চলেছে।

প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে।” তাঁরা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে এলাকায় তল্লাশি চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের বয়ান ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।