দীর্ঘ দুই দশকের সন্ত্রাস ভুলে কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ মাও নেতা পুষ্পার

কলকাতা: দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র মাওবাদী আন্দোলনের (Shakuntala)সঙ্গে যুক্ত থাকার পর অবশেষে মূল স্রোতে ফিরলেন সিপিআই (মাওবাদী)-র দলমা জোনের জোনাল কমিটির সদস্য…

shakuntala-mahato-pushpa-maoist-leader-surrenders-kolkata-police

কলকাতা: দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র মাওবাদী আন্দোলনের (Shakuntala)সঙ্গে যুক্ত থাকার পর অবশেষে মূল স্রোতে ফিরলেন সিপিআই (মাওবাদী)-র দলমা জোনের জোনাল কমিটির সদস্য এবং কুখ্যাত মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো ওরফে ‘পুষ্পা’। বুধবার কলকাতার লালবাজারে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এই ঘটনাকে নিরাপত্তা মহল মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণের সময় শকুন্তলার কাছ থেকে একটি এসএলআর (SLR) রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৪০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও বিহারের বিস্তীর্ণ জঙ্গলাঞ্চলে মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে সারান্ডা জঙ্গল এবং তার সংলগ্ন এলাকায় সংগঠনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

   

আরও দেখুনঃআরও চওড়া হল ফাটল! দল ছাড়লেন প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী

ঝাড়খণ্ড পুলিশের নথি অনুযায়ী, শকুন্তলা মাহাতো ছিলেন অত্যন্ত ওয়ান্টেড মাওবাদী নেত্রী। তাঁর মাথার দাম হিসেবে ১০ লক্ষ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক অভিযানে তাঁর নাম উঠে এসেছিল এবং দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে ধরার চেষ্টা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর আত্মসমর্পণকে বড় সাফল্য বলে মনে করছে প্রশাসন।

শকুন্তলার জীবনের গল্পও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ির মেচুয়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি। মাত্র পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়, অর্থাৎ অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সাংস্কৃতিক শাখার সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে সংগঠনের সশস্ত্র শাখার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হন। প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি জঙ্গলে থেকে আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে মাওবাদী সংগঠনের প্রভাব অনেকটাই কমে এসেছে। একই সঙ্গে বহু এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ, রাস্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসার ঘটেছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় শকুন্তলা নিজেও উপলব্ধি করেছেন যে সশস্ত্র আন্দোলনের ভবিষ্যৎ আর নেই।

আত্মসমর্পণের পর তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আন্দোলনের আর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ জীবনের স্বার্থে মূল স্রোতে ফিরে আসাই একমাত্র পথ। তিনি আরও বলেন, সরকারের পুনর্বাসন নীতির সুযোগ নিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে চান। পাশাপাশি এখনও জঙ্গলে থাকা অন্যান্য মাওবাদী ক্যাডারদেরও অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শকুন্তলা মাহাতোর মতো একজন অভিজ্ঞ নেত্রীর আত্মসমর্পণ শুধু প্রতীকী ঘটনা নয়, এটি মাওবাদী সংগঠনের মনোবলকেও প্রভাবিত করতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তিনি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত অন্য সক্রিয় সদস্যদের মধ্যেও আত্মসমর্পণের প্রবণতা বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।