বিশ্বকাপে ইরানের নতুন বিতর্ক, ক্ষুব্ধ কোচ ও ফুটবলাররা

ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি না মেলায় ক্ষোভ ইরান শিবিরে। ভিসা সীমাবদ্ধতা নিয়ে ফিফার হস্তক্ষেপও চেয়েছেন ফুটবলাররা।

iran-world-cup-controversy-visa-restrictions-coach-players-upset

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, কূটনৈতিক জটিলতা এবং নানা বাধা পেরিয়ে অবশেষে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে (FIFA World Cup) অংশ নিতে পেরেছে ইরান। মাঠে নামার পর প্রথম ম্যাচেই দলটি আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স দেখায়। কিন্তু সেই সাফল্যের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা নিয়ে ইরান শিবিরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে এলেও তাদের ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফদের পর্যাপ্ত সময় থাকার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বিশ্রাম বা পুনরুদ্ধারের জন্য যে সময় সাধারণত আন্তর্জাতিক দলগুলো পায়, সেটিও নাকি ইরানকে দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে দ্রুত দেশ ছেড়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

   

আরও পড়ুন: জাপানি জাদুতে নাজেহাল নেদারল্যান্ডস, অমীমাংসিত ফলাফলে শেষ হল ম্যাচ

জানা গেছে, ইরানের দল বর্তমানে মেক্সিকোর তিজুয়ানাকে নিজেদের বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করছে। সেখানেই চলছে অনুশীলন ও প্রস্তুতি। বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে এবং ম্যাচ শেষ হলেই আবার মেক্সিকোয় ফিরে যাচ্ছে। ইরানের দাবি, তাদের খেলোয়াড়দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা অত্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য অনুমোদিত হয়েছে, যার ফলে তারা অন্য দলগুলোর মতো স্বাভাবিক সূচি অনুসরণ করতে পারছে না।

বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি হোটেলে রাত কাটানোর পরিকল্পনা ছিল ইরান দলের। আগে এ বিষয়ে কোনো আপত্তির কথা জানানো হয়নি বলেই দাবি করেছে দলটির কর্মকর্তারা। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করেই তাদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। ফলে ক্লান্ত ফুটবলারদের রাতারাতি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মেক্সিকোয় ফিরতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের উন্মাদনায় রঙিন কলকাতা, ফুটবল জ্বরে মাতল ‘বিশ্বকাপ গলি’

এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া কোনো দলের সঙ্গে এমন আচরণ কাম্য নয়। তিনি বলেন, ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের শরীর পুনরুদ্ধারের জন্য বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সুযোগ না পেয়ে দলকে ভ্রমণে বাধ্য করা হয়েছে, যা প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘালেনোই আরও অভিযোগ করেন যে, ইরানের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হচ্ছে এবং তাদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে বলে তাঁর মনে হচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিশ্বকাপে অংশ নিতে এসে তারা রাজনৈতিক বিষয় থেকে দূরে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে এবং ফুটবলের বাইরে অন্য বিষয়ও আলোচনায় চলে আসছে।

ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমিও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ফিফার কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তারেমির মতে, সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও সুবিধা নিশ্চিত করা বিশ্ব ফুটবল সংস্থার দায়িত্ব।

এখন প্রশ্ন উঠছে, ফিফা এই অভিযোগকে কতটা গুরুত্ব দেবে এবং ইরানের জন্য কোনো সমাধান বের হবে কি না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের পরিস্থিতিও ইরানের বিশ্বকাপ অভিযানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।