“আমাদের নীরবতাকে দুর্বলতা ভেবো না, আমরা সনাতনী!” বাংলাদেশে হুঁশিয়ারি হিন্দু ছাত্রদের

ঢাকা: বাংলাদেশের (Bangladesh)সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের যুবকরা এবার খোলাখুলি কথা বলতে শুরু করেছেন। একদল হিন্দু যুবক সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একটি শক্তিশালী বার্তা…

bangladesh-hindu-students-warning

ঢাকা: বাংলাদেশের (Bangladesh)সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের যুবকরা এবার খোলাখুলি কথা বলতে শুরু করেছেন। একদল হিন্দু যুবক সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়ে বলেছেন, “আমরা সনাতনী। আমাদের নীরবতাকে দুর্বলতা ভেবো না। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না। যদি আমরা একদিন একই মব সংস্কৃতি গ্রহণ করি, তাহলে তোমরা তা সহ্য করতে পারবে না।”

   

এই বার্তাটি দ্রুত ভাইরাল হয়েছে এবং দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর বেশ কয়েকটি হামলা, মন্দির ভাঙচুর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গাইবান্ধায় রামের মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা এবং মূর্তি ভেঙে ফেলার হুমকিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। অনেক হিন্দু পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

আরও দেখুনদিল্লিতে প্রবেশ-জট! ভারতে না ঢুকেই ঢাকায় ফিরলেন তারেকের উপদেষ্টা

এই পরিস্থিতিতে যুবকদের এই সতর্কবার্তা তাঁদের ক্ষোভ ও অসহায়তার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। একজন যুবক নাম প্রকাশ না করে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধৈর্য ধরে সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আর চুপ করে থাকব না। আমাদের শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা যেন কেউ দুর্বলতা হিসেবে না ভাবে।”তাঁরা আরও বলেছেন, “আমরা সনাতন ধর্মের অনুসারী। আমাদের ধর্ম শান্তি ও সহিষ্ণুতার কথা বলে। কিন্তু সেই সহিষ্ণুতাকে যদি দুর্বলতা মনে করে কেউ বারবার আঘাত করে, তাহলে একদিন পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।”

এই বার্তায় স্পষ্টতই চরমপন্থীদের উদ্দেশ্য করে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি হিন্দু যুব সমাজও একই ধরনের হিংসার পথে যায়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু হিসেবে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাঁদের উপর হামলা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। অনেকে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে যুবকদের এই কঠিন ভাষায় কথা বলা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত হলেও, সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ও সাহসের অনুভূতি তৈরি করেছে।

একজন স্থানীয় হিন্দু নেতা বলেন, “ছেলেরা আর চুপ করে থাকতে চায় না। তারা দেশে শান্তিতে বাঁচতে চায়। কিন্তু নিরাপত্তা না পেলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই হবে।” তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, তাঁরা কোনও সহিংসতা চান না, বরং প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চান।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যদি তা না করা হয়, তাহলে এ ধরনের ক্ষোভ আরও বাড়বে।